• ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালে আড়াই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!

admin
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০১৯, ১৮:১২ অপরাহ্ণ
বরিশালে আড়াই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!

আড়াই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন নগরীর ২৪নং পূর্ব রূপাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌস। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষিকা পদে ফাহিমা ফেরদৌস ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার শুরু হয় চিকিৎসা ও পরে মাতৃত্বকালীন ছুটি। ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে তিনি ছুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারীর পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকসহ কারও সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। কোনো ছুটি বা কর্তৃপক্ষকে অবগত না করেই এখন পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কাছে কয়েক দফা অভিযোগপত্র দাখিল করেও কোন সুফল পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬২১জন শিক্ষার্থীর এই স্কুলে দীর্ঘদিন সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌসের অনুপস্থিতির বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধানশিক্ষক মোঃ ফিরোজ গাজী বলেন, সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা ফেরদৌস ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী চিকিৎসা ছুটির আবেদন করে চলে যান। তার ছুটি পাস হয়েছে কিনা সে বিষয়টিও তিনি দেখে যাননি। যেহেতু ছুটির আবেদনটি পাস হয়নি তাই সেই থেকে অদ্যাবধি তিনি অনুপস্থিত। এতে বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রধানশিক্ষক আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই শিক্ষিকার বাড়ি চরকাউয়া ইউনিয়নে। তার স্বামী অন্য জেলায় চাকরি করার সুবাধে বাড়িতে থেকেই তিনি সন্তানদের দেখভাল করছেন। আর পর্দাশীল হওয়ায় এখন তিনি কারও সাথেই যোগাযোগ করেন না। বর্তমানে তিনি বেতনও পাচ্ছেন না আবার চাকরিও ছাড়ছেন না।

এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জবাবদিহিতার চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।