• ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

admin
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০১৯, ১৮:৫৫ অপরাহ্ণ
বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রিপোর্ট দেশ জনপদ ॥ রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনের মৃতু্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ঘটনাস্থলে ১৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক। হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ। সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না- তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস এর সূত্র মতে, ২২তলা ভবনের ৯তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। এদিকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)। জানা গেছে, ঢামেকে নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কুর্মিটোলায় নিহতের নাম নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু জানান, বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহ আল ফারুক মারা যান। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢামেকে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পরও তার জ্ঞান ফেরেনি। গতকাল সন্ধ্যার পরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত সবমিলিয়ে ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে লাশের সারি। এফআর টাওয়ারের সামনেই ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে টানানো হয়েছে একটি বোর্ড। সেখানে আহত এবং নিহত ব্যক্তিদের হিসাব রাখা হচ্ছে। আগুনের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২তলা ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সঙ্গে বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে হেলিকপ্টার থেকে বালু ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছাদ থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে মানুষদের। এছাড়াও ল্যাডার ইউনিট (বহুতল ভবন থেকে উদ্ধারকারী সিঁড়ি) ও মোটরসাইকেল ইউনিটও উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করেছে। কাঁচে ঘেরা পুরো ভবনটির বাইরে থেকে কাঁচ ভেঙে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভেতরকার ধোয়া বের করছেন এবং ল্যাডার দিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। আহতের দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেখানে। আহতদের অনেককেই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য সব হাসপাতালে জরুরি সেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস সদরের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে নির্বাপণ শতভাগ হয়নি। ধোঁয়া আছে। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে।