বিডি ক্রাইম ডেস্ক॥ করোনা ভাইরাস সংক্রমন মোকাবিলায় পটুয়াখালীর মানুষ আজ গৃহবন্দি। প্রতিটি অলি গলি, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা শহর আজ অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে। এমন অবস্থায় পটুয়াখালীর সচেতন নাগরিকরা দেশের অন্যান্য জেলার করোনার পরিস্থির কথা শুনছে এবং দেখছে, কিন্তু নিজেরা সরকারী বিধিনিষেধ মানছে না।
সকাল হলেই শহরের নিউমার্কেট, পুরানবাজার, বাধঘাটে কাচাঁবাজারে চলছে ঈদের আমেজে চলাফেরা। পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের বিভিন্ন অলিগলির চায়ের দোকানে এখনও চলছে আড্ডা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা পুরনো ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন সাথে নিয়ে প্রশাসনকে বোকা বানানোর চেষ্টায় রাস্তায় বের হয়েছেন করোনা পরিস্থিতি দেখেতে। পটুয়াখালীর গ্রামাঞ্চলে কেউ বা আবার রাতের আধারে খোলা মাঠে জমাচ্ছে তাস, জুয়ার আসর। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে শহরের বোতলবুনিয়া, আউলিয়াপুর, লোহালীয়া অঞ্চলের এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটছে বিত্তশালি শিক্ষিত মানুষের অসচেতনতার অভাবেই। পটুয়াখালীর সচেতন মহলের প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেনীর মানুষ পর্যন্ত সবাই আতঙ্কে কিংবা করোনাভীতিতে থাকলেও নেই নিরাপত্বাজ্ঞান। অতি উৎসুক জনগন করোনায় সতকর্তা এবং সচেতনতার পরিবর্তে আক্রান্তদের দেখতে বের হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে একে অপরকে সচেতন করছে ৩০-৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা মিলে। ইতিমধ্যে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একজন করোনায় মৃত্যু এবং একজন আক্রান্তের ঘটনায়
পটুয়াখালীর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও সচেতনতার পরিবর্তে লোকসমাগম সৃষ্টি করে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে পটুয়াখালীর পশ্চিম সবুজবাগে শাফিয়া আক্তার(৩৪) নামে একজন প্যারালাইসড রোগী খুলনা থেকে রাত ৮ টায় এম্বুলেন্স যোগে নিজ বাসায় আসে। এম্বুলেন্স প্রবেশের সাথে সাথে স্থানীয় অর্ধশত লোক জড়ো হয়ে এম্বুলেন্স রোধ করে প্রশাসনকে খবর দেয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় লোক জড়ো ছিলো যাতে এম্বুলেন্সের রোগী বাসায় প্রবেশ করতে না পারে। পরবর্তীতে প্রশাসনের লোক এসে রোগীকে পর্যবেক্ষন করে তার মধ্যে কোন করোনার উপসর্গ না পাওয়ায় সদর হাসপাতালের সাধারন ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছে। এক্ষত্রে অর্ধশত লোক তাদের নিরাপত্বার জন্য এক এলাকায় জড়ো হয়ে খুলনা ফেরত রোগীকে আটকে দিয়েছেন অথচ তারা ভাবেননি একটি এলাকায় এতগুলো মানুষ জড়ো হয়েছে এবং লোকসমাগমের কারনে করোনা নিজেদের মধ্যে ছাড়াচ্ছে। এমন ঘটনা পটুয়াখালী শহরের প্রথম লেন, কলাতলা হাউজিং এলাকা এবং পুরানবাজারেও লক্ষ করা গেছে। ইতিমধ্যে
পটুয়াখালীবাসী গুজবে বিশ্বাস করে ‘থানকুনিপাতায় করোনা চিকিৎসা’ এমনটা দাবি করেছে অথচ ঘরে বসে একটু হাপিয়ে উঠলেই বাইরে বের হচ্ছে করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ, প্রশাসনের কি ভুমিকা আছে তা দেখতে। সকাল হলেই শহরের সবুজবাগ মোড়ে লক্ষ করা যায় অযথা ঘোরাফেরা করছে কিছু উৎসুক মানুষ। তাদের ধারনা এই ভাইরাস পটুয়াখালীর মত শহরে আসতে পারবে না। অথচ ঢাকা-নারায়নগঞ্জ থেকে বহু মানুষের আগমন ঘটেছে পটুয়াখালী সদর ও দুমকি উপজেলায়। দুমকিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় অত্র উপজেলাকে লক ডাউন করা হয়েছে কিছুদিন পূর্বে।
পটুয়াখালীর সাধারন মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সচেতনতার নিদর্শন প্রকাশ করলেও বাস্তবে নেই কোন নিরাপত্বা জ্ঞান। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী র্যাব-৮ কোম্পানী অধিনায়ক রইছ উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, পটুয়াখালী করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে জনসমাগম এড়ানো ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার মুদি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঔষধের দোকান ব্যতিত অন্যান্য সকল দোকান পাট বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেছে। লোকসমাগম এড়াতে পটুয়াখালী শহরের প্রতিটি স্থানে আমাদের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোন এলাকায় যাতে অযথা কেউ আড্ডা দিতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষনিক মনিটরিং চলছে। অযথা কেউ বাইরে বের হলে সক্রামক আইনে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে জানিয়েছেন তিনি।