• ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পটুয়াখালীতে বিষ উৎপাদনে সরকারের অনুমতি চাচ্ছেন সেই রাজ্জাক বিশ্বাস

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ২২:০৯ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে বিষ উৎপাদনে সরকারের অনুমতি চাচ্ছেন সেই রাজ্জাক বিশ্বাস

সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালী ॥ পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে নন্দিপাড়া গ্রামে ২০০০ সালে ১ একর জমির উপর সাপের খামার গড়ে তোলেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রাজ্জাক বিশ্বাস। বিদেশ ফেরত এই বেকার যুবক নিজ এলাকায় ভিন্নধর্মী খামার গড়ার মাধ্যমে স্থানীয় বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

মাত্র ১ টি কোবরা ও ২৫ টি ডিম নিয়ে যাত্রা শুরু করা সাপের খামারে বর্তমানে ২৫০ টির বেশি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে। একটি পাঁকা ঘরে খাঁচায় রাখা হয় সাপগুলো। খামারের তত্বাবধানে রয়েছে ৭ জন কর্মচারী। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন সাপগুলোকে আলাদা আলাদা খাবার দিতে হয়। রাজ্জাক বিশ্বাসের সাপের খামারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বহু মানুষ খামার প্রদর্শনের জন্য আসেন। কিন্তু খামার মালিক প্রতিনিধিকে জানান, ১৯ বছর ধরে সাপের খামার পরিচালনায় হিমসিম খাচ্ছে কর্মচারিরা এবং খামার মালিক। সাপের নিয়মিত দেখাশোনা এবং খাবার প্রদানে বহু অর্থ ব্যায় হচ্ছে। নিজ অর্থে গড়ে তোলা খামারে শুরু থেকে কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পান নি তিনি। কর্মচারির বেতন দিতেও হিমসিম খাচ্ছেন বর্তমানে। বিষ বিক্রয়ের অনুমতি না থাকায় সাপের বিষ সংগ্রহ এবং বিক্রয় করতে পারছেন না।

স্থানীয় পরিবেশ এবং ওষুধ তত্তাবধায়ক প্রশাসনকে খামারের সকল কাগজপত্র এবং আবেদন জমা দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিচ্ছেন না। রাজ্জাক বিশ্বাসকে নিয়ে কয়েকবার সরকারী কর্মকর্তারা বৈঠক এবং আলোচনা করলেও অনুমতি প্রদান করেন নি। সরকার ছাড়পত্র না দিলে রাজ্জাক বিশ্বাস আর্থিক ভাবে কোন লাভ পাচ্ছেন না। তাই বর্তমানে নিজ খরচে কর্মচারিদের বেতন এবং সাপের খাবার ক্রয় সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি অনেক কর্মচারির বেতন না দিতে পারার ফলে কর্মস্থল ছেড়ে চলেও গেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, সাপের খামারে নিরাপত্বা বেষ্টনি এবং কোনো কর্মচারিকে সাপে কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা করার মতো প্রয়োজনীয় উপাদান না থাকায় সরকার অনুমতি দেয় নি।

খামার মালিক রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, নিজ খরচে ১৯ বছর ধরে খামার পরিচালনা করছেন তিনি। একার পক্ষে খামার পরিচালনার এত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। সরকারী ভাবে অর্থায়ন এবং ছাড়পত্র প্রদান করলে নিরাপত্বা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সকল উপাদান ক্রয় করে তিনি খামার পরিচালনা করবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ছাড়পত্র প্রদান করলে তার খামার থেকে উৎপাদিত বিষ জাতীয় অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখবে এবং বর্হিবিশ্বেও সুনাম অর্জন করবে।