• ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

দুর্নীতির আখড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯, ১৮:১১ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির আখড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর

আনোয়ার হোসেন ॥ বিনামুল্যের পশু চিকিৎসায় টাকা নেয়া, সরবারহ থাকার পরও কোম্পানির ঔষধ কিনতে বাধ্য করা, মাঠ পর্যায়ে প্রজনন কর্মী ও ভিএফএ (ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিষ্ট্যান্ট) দের চাঁদাবাজি, সরকারি ঔষধে ঝুকিপুর্ণ নিরাপত্তা স্টিকারসহ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে নগরীর উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল সংকটও রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিন সরকার বলেন, চারটি ইউনিয়নের জন্য একজন ভিএফএ রয়েছে। যেকারনে কাংখিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পরে। তবে খামারিরা ফোন করলে মাঠ পর্যায়ে তারা চলে যায়। আবার যে পশুটি হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়না সেখানেও তারা চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পশু চিকিৎসা নিতে এসে পশু মালিকদেরকে ৩/৫শ টাকা দিতে হয়। আর সরকারি ৫০ টাকার ভ্যাকসিন ২/৩শ টাকায়ও বিক্রি করা হয় মাঠ পর্যায়ে। এনিয়ে জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুক্তভোগী গাজী নুরুজ্জামান বলেন, ভিএফএ যারা আছে তাদের ফোন অনেক সময় ধরেনা। আমরা ৩/৪ বার অনুরোধ করার পর তারা আসলে তাদেরকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকার নিচে দিলে রাগ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর আসেনা। শুধু তাই নয় সরকারি ৫০ টাকার ভ্যাকসিনও হাসপাতালেই বিক্রি করে ২/৩ শ টাকায়। যদি বাড়তি টাকা দেই তাহলে বের করে দেয়। আর নাদিলে বলে সাপ্লাই নাই। সরকার না দিলে আমরা পামু কই। এসময় ভুক্তভোগীসুত্র আরো জানায়, আমার প্রতিবেশীর জন্য ছাগলের পিপিআর ভ্যাকসিন ও হাসের ডাকপ্লেগ ভ্যাকসিন আনতে গিয়ে বেশি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। এদের লজ্বা-ভয় কোনটিই নেই। হাসপাতালটির ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার বিজন সরাসরি একর্মকান্ড পরিচালনা করে। এদিকে করাপুর এলাকার অপর ভুক্তভোগী শামিম সিকদার বলেন, আমার তিনটি ছাগলের একটি মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। এরপর কয়েকদিন আগে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করাই। এতে আমার ৫/৬শ টাকা খরচ হয়েছে কারন তাদেরকে বকশিস দিতে হয়। আর কাজ করার আগেই বলে এত টাকা লাগবে। রাজি হলে কাজ করে আর নাহলে কাজ করেনা। আর নগরীর ভাটিখানা এলাকার নারী ভুক্তভোগী আসমা খাতুন বলেন, আমি ২/৩ বার ছাগল নিয়ে এসেছি প্রতিবারই স্লিপ লিখে দিয়েছে বাইরে থেকে ঔষধ আনার জন্য এবং তারা যে কোম্পানি লিখে দিবে সেটাই কিনতে বাধ্য করে। অপরদিকে উক্ত ভেটেরিনারি হাসপাতালে কি কি ঔষধ সরকারিভাবে সরবরাহ রয়েছে তার কোন চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে একাধিক সুত্র জানায়, কম্পাউন্ডার ও মাঠকর্মীরা কোন প্রকার তথ্য দেয়না। কারন তাদের দুর্ণীতি ফাঁস হয়ে যাবে। ঔষধ সরবারহের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, স্টোরের দায়িত্বে রয়েছে ভেটেরিনারি সার্জন এবং সে ছুটিতে রয়েছে। এরপর তার পরে রয়েছে ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার বিজন। কিন্তু তার কাছে জানতে চাইলে সেও ঘোজামিলের আশ্রয় নিয়ে বলেন, স্যার না আসলে কিছু বলতে পারবোনা। তাহলে চিকিৎসা করেন কিভাবে? এরকোন সদুত্তর মেলেনি। সুত্রে আরো জানা গেছে, গাভী প্রজনন বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ে ষাড়ের বীজ সরবরাহ করা হয় প্রজনন কর্মীদের মাধ্যমে। বীজের একটি টিউব যদি কেউ খামারি বা পশুর মালিক তার বাড়িতে প্রজনন কর্মী ডেকে নিয়ে স্থাপন করেন তাহলে তাকে সরকারি নিয়মানুযায়ী ৭০ টাকা দিতে হবে। আর যদি হাসপাতালে এসে তা গাভিতে স্থাপন করে তাহলে তাকে দিতে হবে ৩০ টাকা। কিন্তু ভুক্তভুগী সুত্র জানায়, ৩০ আর ৭০ তো দুরে থাক ৫/১হাজার টাকার নিচে এরা টাকাই ধরেনা। আর আগেই চুক্তি করে নেয়। এদিকে হাসপাতলটি থেকে সরবরাহকৃত ঔষধের মোরকে ‘এটি প্রাণী সম্পদের সম্পদ, বিক্রয়ের জন্য নহে’ সরকারি এ স্টিকারটি লাগানো হয় সরকারি ঔষধ কালোবাজারি ঠেকানোর জন্য। কিন্তু সেই স্টিকারটিও নামে মাত্র লাগানো রয়েছে এবং সহসাই স্টিকারটি উঠানো সম্ভব। যেকারনে কালোবাজারি হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল হাসপাতালটিতে ফরধফরহ (াবঃ) নামের একটি ঔষধে এ চালচিত্র দেখা গেছে। বরিশাল সদর উপজেলা প্রানী সম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এহেন দুর্নীতির ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ উপ-পরিচালক মো: কাসেম বলেন, উজেলায় যে মেডিসিন সাপ্লাই দেয়া হয় তা দিয়ে মাত্র তিন মাস সরবরাহ করা যায়। আর প্রতিটি ঔষধে সরকারি স্টিকার রয়েছে তবে তা দুর্বল থাকার বিষয়টি জানিনা। আর ঔষধের মোড়কে তো স্টিকারটি মুদ্রিত থাকার নিয়ম রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভেটেরিনারি ও প্রজনন কর্মীদের চাঁদাবাজি এবং ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ঘুষ দিতে বাধ্য করার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমার ০১৭১২৯২৯১০২ এই নাম্বারে ফোন করে কিংবা লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাকসিন সরবরাহে গরুর তর্কা ৫০, খুরা ১শ ৬০, ছাগলের পিপিআর ৫০, গলাফুলা ৩০, মহিষের গলাফুলা ৩০, বাদলা ৩০ টাকা, মুরগির রানিক্ষেত ১৫টাকা, হাস ডাকপ্লেগ ৩০টাকা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন ফি’র বাইরে বাড়তি টাকা হাতানোর ব্যাপারে সায়েস্তাবাদ, কাশিপুর, চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভেটেরিনারি মাঠ কর্মী গোলাম ফারুক বলেন, আমি ভ্যাকসিন ফির বাইরে কোন চার্জ নেইনা অন্য কেউ কি করে জানিনা। তবে একই সুরে অন্যান্যরা মাঠ কর্মীরাও কথা বলেছেন বলে সুত্রে জানাগেছে।