• ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে কোস্ট গার্ড

জেলেদের ১৫ লাখ টাকা আত্মসাত করলেন মৎসজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক

admin
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০১৯, ০০:০৭ পূর্বাহ্ণ
জেলেদের ১৫ লাখ টাকা আত্মসাত করলেন মৎসজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোস্ট গার্ডে ট্রলার চালক (মাঝি) নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ক্ষুদ্র মৎসজীবী সমিতি বরিশাল জেলার নেতৃবৃন্দ।

মাত্র ৪ জন মাঝি নিয়োগ দিতে কমপক্ষে ১০ জনের কাছ থেকে প্রায় পনেরো লাখ টাকা নিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি কোস্ট গার্ডের নজরে আসলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় দক্ষিণাঞ্চলে জেলেদের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদারকে। এ নিয়ে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাটিয়ে দিয়েছে কোস্ট গার্ড বাহিনী।

পাশাপাশি আনোয়ার হোসেন সিকদারের অপর এক সহযোগী ট্রলার চালক নূরুল ইসলাম ওরফে নূরু মাঝিকে প্রশাসনিক এই দফতরের যেকোন স্থাপনায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়, ‘উপরোক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী দক্ষিণ জোনের সকল স্থাপনা, বেইস, স্টেশন, আউটপোস্ট এবং জাহাজ সমূহে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো।’

তবে দৌরত্ম কমেনি অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন সিকদারের। তিনি বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি কোস্ট গার্ড সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। তাছাড়া কোস্ট গার্ড যদি মনে করে কেউ বাহিনীর স্থাপনায় ক্ষতিকর তখন তাকে বাহিনী থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়ে মাঝিদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়াই ছিল আনোয়ার হোসেন সিকদারের অর্থ আয়ের মূল উৎস। জেলেদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিয়ে অল্প দিনেই বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। সর্বশেষ বরিশাল নগরীর ১০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন কোস্ট গার্ডে মাঝি পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নূরল ইসলাম, গোলাম হোসেন দুদু, বেল্লাল, রুবেল, হাসান, খোকন, জসিম (১), রিপন, নিজাম, জসিম (২), সুমন মিরার নাম পাওয়া গেছে। এরমধ্যে কয়েকজন মাঝি টাকা প্রদানের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, কোস্ট গার্ডে টহল ট্রলার চালানোর জন্য অস্থায়ী চুক্তিতে চার জনকে নিয়ে থাকে। কোস্ট গার্ডে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের জেলেদের সংগঠনের নেতা আনোয়ার সিকদার টাকা নিয়েছেন। তখনতো বুঝি নাই কোস্ট গার্ডে আনোয়ার সিকদারের কোন গুরুত্ব নেই। তারা নিজেরা যাছাই বাছাই করে মাঝি নিয়ে থাকেন। আমরা আনোয়ার সিকদারের প্রলোভনে পড়ে টাকা দিয়েছি। এখন তিনি টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না আর আমাদের মাঝি হিসেবে নিয়োগও পাইয়ে দিতে পারছেন না। মাঝিরা বলেন, আমরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন। এখন আমরা ভয়ে আছি।

টাকা নেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন আনোয়ার হোসেন সিকদার। তবে এই সংক্রান্ত কোন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশ করে আমার ক্ষতি করে আপনার লাভ নাই। আমার প্রতিপক্ষরা কোস্ট গার্ডদের দিয়ে এই পোস্টারিং করিয়েছে। কোস্ট গার্ডে আমি মাঝি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কারও কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই। তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঝি হয়ে নিয়োগ পেলে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারে। সে কারনেইতো যার মাধ্যমে মাঝি পদে নিয়োগের লিংক পায় তাকে কিছু টাকা দিলেতো দোষের কিছু নেই।

এদিকে মাঝি নিয়োগে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের দৌরত্ম টের পেয়ে আবেদিত মাঝিদের বায়োডাটা যাছাই-বাছাই করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে নাম পাঠিয়েছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।