যশোরের কেশবপুরে সোমবার সকালে কেশবপুর-সরসকাটি সড়কের ভালুকঘর এলাকায় হেলপারের চালিয়ে আসা পিকনিকের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে উল্টে পড়ে সাব্বির (৫) নামে এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
এ সময় বাসের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরার বাউকোলা ও আগরদাড়ি গ্রামের লোকজন বাগেরহাটে পিকনিকে যাচ্ছিলেন।
সাথী পরিবহনের বাসটি (সাতক্ষীরা-জ ১১-০০৯২) সোমবার সকালে হেলপার চালাচ্ছিল। কেশবপুরের ভালুকঘর বালির পুকুর নামক স্থানে এসে হেলপার বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এটি সড়কের পাশে পুকুরের পানিতে উল্টে যায়।
এ সময় এলাকাবাসী জানালার কাচ ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করলেও মায়ের কোলে থাকা ৫ বছরের শিশু সাব্বিরকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে সাব্বির একটি সিটে আটকে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। উদ্ধারের পর সাব্বিরকে কেশবপুর হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুটিকে কোলে নিয়ে করা তার মায়ের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। সাব্বির বাউকোলা গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। বাসের ৪৩ জন যাত্রীর সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহতরা হলেন- আনিকা (১৫ মাস), ফারহানা (১৬), রুহী (১৪ মাস), সোহাদা (২৫), জুলেখা (১৫), শিরিনা (১৮), শামিউল (১০), মোস্তাকিন (১২), ঝুমৃর (১৮), সোহাগ (২৬), শহর ভানু (৪০), মারিয়া (১৭), সাজু (১৬) ও রাজিয়া বেগম (৫০)।
এদের মধ্যে আনিকা, রুহী ও মোস্তাকিনকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মনিরামপুর ইউনিটের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক পালিয়েছে।
আহতরা জানিয়েছেন, হেলপার গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মিজানূর রহমান হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে যান।