চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥
চরফ্যাশনে নিখোঁজের ১৬ দিনেও এনজিওকর্মী হেলাল উদ্দিনের সন্ধান মেলেনি। এই এনজিওকর্মীর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবার এবং কর্মরত প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে স্থানীয় থানা ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরস্পর বিরোধী দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হেলাল উদ্দিন পরিবার উন্নয়ন সংস্থার চর মোতাহার শাখায় অগ্রসর মাঠকর্মী পদে কর্মরত ছিলেন। গত ২৫ জুলাই কর্মস্থল থেকে তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন।
হেলাল উদ্দিন নিখোঁজের পর ৩০ জুলাই এনজিও পরিবার উন্নয়ন সংস্থা এফডিএর সহযোগী সমন্বয়কারী হারুন দুলারহাট থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।
ওই ডায়েরীতে একদিনের ছুটি নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখার জন্য হেলাল উদ্দিন বাড়ির উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করেছে এবং ২৮ জুলাই কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তা করেননি বলে দাবী করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ ডায়রীতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ তছরুপের আশংকার কথা উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের বাবা মো. কাঞ্চন মাঝি চরফ্যাশন থানায় অপর একটি সাধারণ ডায়রীতে দাবী করেন, কর্মস্থল থেকে বাড়ি আসার কথা জানানো হলেও ছেলে তার বাড়ি ফেরেনি।
হেলাল উদ্দিন নিখোঁজের ১০দিন পর ৪ আগস্ট পরিবার উন্নয়ন সংস্থার চর মোতাহার শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু ছায়েদ বাদি হয়ে কর্মচারী কর্তৃক স্বাক্ষর জাল ও প্রতারণার মাধ্যমে এনজিও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হেলাল উদ্দিনসহ ৬জনকে আসামী করে দুলারহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় হেলাল উদ্দিন ছাড়াও তার বাবা, বড় ভাই এবং স্ত্রীকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে অপরাপর আসামীদের যোগসাজসে হেলাল উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৪০ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে দাবী করা হয়েছে।
এদিকে গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের বড় ভাই মো. বিল্লাল হোসেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. আবু ছায়েদসহ ৬ জনকে আসামী করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ওই মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়, বেশ কিছুদিন ধরে শাখা ব্যবস্থাপক আবু ছায়েদ মাঠ সমিতির আদায়ের টাকা বিনা রশিদে তার কাছে জমা রাখতে হেলাল উদ্দিনকে বাধ্য করেছেন।
এভাবে বিনা প্রমাণে বিপুল পরিমান টাকা শাখা ব্যবস্থাপকের হাতে জমা থাকায় হেলাল উদ্দিনের সাথে শাখা ব্যবস্থাপক আবু ছায়েদের মনমালিন্য হয়।
হেলাল উদ্দিন বিষয়টি তার পরিবারের অভিভাবকদের জানালে তারা এনজিও চরফ্যাশন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এনিয়ে হেলাল উদ্দিনের সাথে শাখা ব্যবস্থাপক আবু ছায়েদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
কিন্তুু প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা হেলাল উদ্দিনের অভিভাবকদের অভিযোগ আমলে নেননি। সম্পর্কের অবনতির মধ্যে গত ২৫ জুলাই দুপুরে হেলাল উদ্দিনকে চর মোতাহার শাখা অফিসে আটক রেখে মারপিট করা হয় এবং পরে একটি মোটরসাইকেলের মাঝসিটে হেলাল উদ্দিনকে বসিয়ে এবং পেছনে শাখা ব্যবস্থাপক আবু ছায়েদ বসে আহত হেলাল উদ্দিনকে অপহরণ করে শাখা অফিস থেকে পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে আর হেলাল উদ্দিনের হদিস পাওয়া যায়নি।
হেলাল উদ্দিনের নিখোঁজ নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান পরিবার উন্নয়ন সংস্থা এবং তার পরিবারের পাল্টাপাল্টি মামলার পর দুলারহাট থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানান, মামলাটি তদন্তাধীন আছে।