• ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

আমতলীতে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গি, আক্রান্ত ২ আতঙ্কে মানুষ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ২১:৩৭ অপরাহ্ণ
আমতলীতে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গি, আক্রান্ত ২ আতঙ্কে মানুষ

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়েছে। দুই নারী ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

গত পাঁচ দিনে ৬ জন রোগী জ্বর নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুই জন ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত। জ্বরে আক্রান্তের মধ্যে শতকরা ৩৩ জন এ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ডেঙ্গি মশা নিধনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনে জ্বর নিয়ে ৬ জন রোগী আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। ওই ৬ জনের ডেঙ্গিজ্বর পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে জাকিয়া আক্তার ও লামিয়া নামের দুই নারী ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

জাকিয়া বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়। ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত রোগী ও তার স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জ্বরে আক্রান্ত ৬ জনের মধ্যে শতকরা বিবেচনায় ৩৩ শতাংশ ডেঙ্গি রোগী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গিজ্বরের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে ডেঙ্গিমশা নিধনে উপজেলা প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উপজেলা পরিষদে মশার মেশিন থাকলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। দ্রুত ডেঙ্গিমশা নিধনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৫০১নং কেবিনে চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের গৃববধূ লামিয়া আক্তার ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মশারি খাটিয়ে শুয়ে আছেন।

গৃহবধু লামিয়া আক্তারের মা শেফালী বেগম বলেন, আমার মেয়ে ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তবে কিছুটা সুস্থ আছে।

আমতলী পৌরসভা নাগরিক কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো.আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা প্রশাসন ডেঙ্গিমশা নিধনে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গিমশা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিমাদ্রী রায় বলেন, ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত একজনের অবস্থা খুবই খারাপ থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অপর একজনকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, গত পাঁচ দিনে ৬ জন রোগী জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনই ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত। ডেঙ্গিমশা নিধনে এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কাওসার হোসেন বলেন, মশক নিধন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ করে থাকে। পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।