বিডি ক্রাইম ডেস্ক ॥ “কাউন্সিলর চাল না দেওয়ায় মোর স্বামী জাল পুইয়্যা হ্যালাইছে, এ্যাহোন মুই ক্যামনে মোর পোলাপান লইয়্যা খামু। পোনেরো দিন আগে গ্রামীন ব্যাংক অইতে ৪০ আজার টাকা লোন লইয়্যা জাল নৌকা বানাইছে। হেই জাল মোর স্বামী ক্ষোভে দুঃখে পুইর্যা হালাইছে। এ্যাহন মুই কি দিয়া গুরাগারা লইয়্যা খামু আর কি দিয়া কিস্তি দিমু। কান্না জনিত কন্ঠে মঙ্গলবার দুপুরে নয়া বেঙ্গলী গ্রামে এ কথা বলেছেন, জেলে শহীদ বিশ্বাসের স্ত্রী সামসুন্নাহার। তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলরকে পায়ে ধরে কইছি আমনে মোর স্বামীর নামডা দেন কিন্তু হ্যাতে কাম অয় নায়। কাউন্সিলর কালু কইছে তোর স্বামী প্রকৃত জেলে হওয়ার পরেও মুই চাউল দিমু না। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের নয়া বেঙ্গলী গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের জেলে শহীদ বিশ্বাস ও লিটর সিকদার দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পায়রা নদীদে মাছ শিকার করে আসছে। ওই হিসেবে জেলেদের নামে সরকারীভাবে সকল বরাদ্দ পেয়ে আসছেন দুই জেলে। এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিতব্য আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিবর্তন হলে ভাগ্য বদলে যায় দুই জেলের। তাদের অভিযোগ নির্বাচনে কাউন্সিলর মোঃ কালু খলিফার সমর্থন না করায় জেলে হিসেবে সরকার কর্তৃক সকল বরাদ্দ বাতিল করে দেন তিনি। বিগত বছরে তারা জেলে হিসেবে সকল বরাদ্দ পেয়েছে। ফেব্রুয়ারী মাসের পর থেকে চার দফায় চাল দিলেও এই দুই জেলে কোন চাল পায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দুই জেলে শহীদ বিশ্বাস ও লিটন সিকদার চাল না পেয়ে ক্ষোভে দুঃখে লক্ষাধীক টাকার জাল পুড়ে ফেলেছে। এ ঘটনাটি স্থানীয় জাহিদ জুবায়ের নামের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষনিক ভাইরাল হয়ে পরলে নিন্দার ঝড় উঠে। নরেচরে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ মনিরা পারভীন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমকে ডেকে দুই জেলেকে সহায়তার নির্দেশ দেন। তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল জাল পুড়ে ফেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে ওই দুই জেলের।
স্থানীয় জেলে হিমু ফকির, জালাল আকন, নজির শরীফ ও খবির ফকির বলেন, আমতলী পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডে প্রকৃত জেলে রয়েছে মাত্র ১০ জন। তার মধ্যে শহীদ বিশ্বাস ও লিটন সিকদার অন্যতম। তারা সারা বছরই মাছ শিকার করে জিবিকা নির্বাহ করে। বিগত বছরে সরকারের দেয়া সকল বরাদ্দ পেয়ে আসছে। বর্তমান কাউন্সিলর আসার পরে তারা আর সরকারের দেয়া কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। তাই তারা ক্ষোভে দুংখে জাল পুড়ে ফেলেছে।
স্থানীয় রবিন, রাহাত ও রাকিব বলেন প্রকৃত জেলে হয়ে চাল না পাওয়ায় ক্ষোভে দুঃখে জাল পুড়ে পেলেছে।
জেলে শহীদুল ইসলাম ও লিটন সিকদার বলেন, আমরা গত ২০ বছর ধরে পায়রা নদীতে মাছ শিকার করে জিবিকা নির্বাহ করে আসছি। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নদীতে যাইনা। গত ১০ বছর ধরে সরকারী সকল ধরনের সহায়তা আমরা পেয়ে আসছি। বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ কালু খলিফা আসার পরেই আমাদের সকল সরকারী বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। বহু হাতে পায়ে ধরেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তাই ক্ষোভে দুঃখে সমুদয় জাল পুড়ে ফেলেছি।
আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ মেনহাজ উদ্দিন চৌকিদার বলেন, এই ওয়ার্ডে ১০ জন প্রকৃত জেলে রয়েছে। তার মধ্যে শহিদ বিশ্বাস ও লিটন অন্যতম। গত ১০ বছর ধরে এরা সরকারের সকল বরাদ্দ পেয়ে আসছে।
বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ কালু খলিফার সাথে তার মুঠোফোনে (০১৭৩০১৭৮৩৩৯) বার বার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, ওই দুই জেলের জেলে কার্ড হয়নি। আগামি অর্থ বছর থেকে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ মনিরা পারভীন বলেন, আগামি ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রান্সফোর্স কমিটির সভায় ওই দুই জেলেকে জেলে কার্ড দেয়া হবে। এরপরে তারা সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন।