• ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

অগ্নিকান্ডের জন্য বেশি ঝুঁকিপুর্ণ ৯০ দিনের মৌসুম

admin
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০১৯, ১৩:১৬ অপরাহ্ণ

মীর নাজমুল॥ ৯০ দিনের চলমান মৌসুমে অগ্নিকান্ডের জন্য বেশি ঝ্ুঁকিপুর্ণ নগরীর ৮টি এলাকার বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সহস্রাধিক পরিবার রয়েছে হতাহতের চরম শংকায় । ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিপত্তী ও সহজসাধ্য পানির উৎস্য না থাকায় নগরীর ৮ এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহতের শংকা প্রায় শতভাগ। অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিপুর্ণতার ব্যাপারে স্টেশন অফিসার বলেন, মার্চ থেকে মে এই তিনমাসে সবকিছু শুষ্ক থাকে এবং তাপদাহও থাকে অধিক, যেকারণে আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সরু গলি, রাস্তা লাগোয়া ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পণ্যবাহী গোডাউন যত্রতত্র গড়ে ওঠায় অগ্নিকান্ড মুহুর্তেই পুরোমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে। এনিয়ে নগরীর ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেবাশিষ বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলদের সাথে সভা করেছি। এছাড়া কলোনীগুলোতেও অগ্নিকান্ডের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মহড়াও করেছি। আর মার্কেটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে আলোচনা সভা করা হবে অগ্নিকান্ডের সুরক্ষার ব্যাপারে। এসময় তিনি আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিসের একটি পানিবাহী গাড়ি অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে গেলে রাস্তা প্রয়োজন কমপক্ষে ত্রিশ ফুট। অথচ পদ্মাবতি, চকবাজার, হাটখোলা, বাজাররোড, পলাশপুর ও টিএন্ডটি কলোনীতে পানিবাহি গাড়ি নিয়ে গিয়ে কোন কাজ করা যাবেনা। কারণ যোগাযোগ অবকাঠামো অত্র এলাকার বাসিন্দারাই রাখেননি তাদের আবাসন কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময়। এরপর ফায়ার সার্ভিস থেকে মোটরসাইকেল টিম ফোম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে কিন্তু তা অগ্নিকান্ডের তুলনায় অপ্রতুল সার্পোট দেবে। এনিয়ে তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার চকবাজার এলাকায় প্লাস্টিক পন্য বিক্রেতা রশিদ স্টোরে সর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ওই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো এতই ভয়ানক যে, কোন প্রকার আলো বাতাস প্রবেশের সুযোগ নেই। শুধু তাই নয় দোকানটির পিছনে তৈরী করা হয়েছে লম্বা গোডাউন। সরেজমিন সূত্রে দেখা গেছে, রশিদ স্টোরের একপাশে চকবাজারের মুল সড়ক আর অন্য তিন পাশে ঘন ঘন বাসা-বাড়িসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখানে কোন সুযোগ নেই দোকানটির অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা। শুধুতাই নয় দোকানটিতে প্লাস্টিকের পণ্য মজুদ হওয়ার কারনে ফের আগুন লাগলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাবে অবস্থানকৃত বাসিন্দারা। সেক্ষেত্রে আগুনের ভয়াবহতা বিষাক্ত ধোঁয়ার কাছে তেমন কোন ফ্যক্টর হবেনা। এছাড়া গত শনিবার ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর কলোনীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি নিয়ে গেলেও সড়ক সরু হওয়ার কারনে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যেতে পারিনি। শেষমেশ অনেক দুরে পানিবাহি গাড়ি রেখে পানি দিতে হয়েছে কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় পাশের একটি খাল থেকে পানি সরবরাহ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। এদিকে অনুসন্ধানসুত্রে আরো জানা গেছে, চকবাজার, কাঠপট্টি, কলাপট্টি, বাজার রোড, হাটখোলা, কশাইখানা, পদ্মাবতি, মহসিন মার্কেটসহ এলাকাগুলোতে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী এবং তাদের বাসা-বাড়ি রয়েছে। ব্যবসার মধ্যে রয়েছে কাপড়, প্লাষ্টিক পণ্য, পাদুকা, ক্রোকারিজ, পলিথিন, কার্পেট, কসমেটিক, রেক্সিন, ভুষামাল, পাটের চট, উচ্ছিষ্ট কাগজ বিক্রয়। এরমধ্যে চকবাজার এলাকায় সাজ কসমেটিক, বরিশাল কসমেটিক, পদ্মাবতি এলাকায় প্লাস্টিক জুতার দোকানের মধ্যে রয়েছে মকবুল স্টোর, চুন্নু স্টোর, ওমর সু হাউজ, আবিদ সু হাউজ, শ্রাবনী জুতার দোকানসহ রয়েছে তুলার দোকান তুষার বেডিং। এসকল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দোকানের মধ্যে সুবিধামতো গোডাউন তৈরী করেছে। আর কোনটিতেই ফায়ার লাইসেন্স নেই বলে ফায়ার সার্ভিস দপ্তরসুত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি কোন দোকানেই নেই অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার। তবে এ ব্যাপারে মকবুলসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কোন মজুদ করি না, আনি আর বিক্রি করি এতেই শেষ। এনিয়ে চকবাজার, কাঠপট্টি, পদ্মাবতীর ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের সাথে ফায়ার সার্ভিস লোকজনের সাথে মিটিং হয়েছে। আর তাদের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ সুরক্ষা নিতে বলা হয়েছে। যাতে কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনার সুত্রপাত্র কোন ব্যবসায়ীরা অবহেলা কিংবা অসতর্কতার কারণে না হয়। অপরদিকে নগরীর মহসিন মার্কেটেও ফায়ার কোড তেমন মানা হয়নি। এব্যাপারে মার্কেটটির সভাপতি শেখর বলেন, আমাদের মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানেই অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রয়েছে। আর ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র ব্যসায়ীদের এমন ঝঁকিপুর্ণভাবে পণ্য মজুদের ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: অজিউর রহমান বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলবো এবং প্রথম পদক্ষেপে তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে এরপর অভিযান পরিচালনা করা হবে।