• ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে মাঝিদের নৈরাজ্য থামালেন বিচারক

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬, ২০:৩৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে মাঝিদের নৈরাজ্য থামালেন বিচারক

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।

ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে আসতেই তিনি রুখে দাঁড়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।

​শুধু আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি বিচারক। সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

​বিচারকের নির্দেশের পর পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা। নেই কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ।

ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, ‘আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।’

পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, ​’আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।’

বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।’

এর আগেও বরিশালের জনস্বার্থে বিভিন্ন প্রসঙ্গে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন এই বিচারক। ​বরিশালের ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজের বিরুদ্ধে যখন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের খবর সময় সংবাদ প্রচার করে, তখন কোনো আনুষ্ঠানিক মামলার অপেক্ষা করেননি তিনি। নিজের বিচারিক ক্ষমতাবলে স্ব-প্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের সরাসরি নির্দেশ দেন।