বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: বরিশালে এক আইনজীবীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ এর ফাঁদে ফেলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী এস. এম. তৌহিদুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার (১৩ মে) বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ৫ জন নামধারী ও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যাক্তিক আসামী করে একটি মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক শরমিন জাহান বিষয়টি আমলে নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামীরা হলেন, তাজরিন জাহান ইভা (৩৭), মো. সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. আসাদ (৫৭), মো. ফিরোজ (৪৭) এবং মারিয়া বেগম (২৬)।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, আসামি তাজরিন জাহান ইভা ও আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ইতিপূর্বে জমিজমা সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা বলে অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমানের চেম্বারে যাতায়াত করতেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি তাদের আইনি সহায়তা দিলেও জানতেন না যে তারা একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের সদস্য।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গত ৮ ও ৯ মে আসামিরা বাদীর ছবি ও তথ্য চুরি করে। পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো এডিট করে এবং মানহানিকর ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে কয়েকটি ফেসবুক পেইজে প্রচার করে।
এছাড়াও আসামি তাজরিন জাহান ইভা নিজেকে ওই আইনজীবীর ‘স্ত্রী’ দাবি করে বক্তব্য ছড়িয়ে বাদীর সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেন। পরে আসামীরা ওই আইনজীবীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবী করেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট এস. এম. তৌহিদুর রহমান জানান, ‘আসামীরা হানিট্রাপ চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা অর্থের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমার এবং আমার পরিবারের মান-সম্মান নষ্ট করেছে। তারা মূলত একটি ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য যারা ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে।’
তবে এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামী তাজরিন জাহান ইভাসহ অন্য আসামীদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ‘আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’