• ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

কলাপাড়ায় ভিক্ষুককে কম দামে ওষুধ বিক্রি করে বিপাকে ব্যবসায়ী

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় ভিক্ষুককে কম দামে ওষুধ বিক্রি করে বিপাকে ব্যবসায়ী

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভিক্ষুকের কাছে কম দামে ওষুধ বিক্রি করায় প্রগতি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন কেমিস্ট এন্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে সমিতির নেতাদের আল্টিমেটামের পরে ফার্মেসিটি বন্ধ রাখা হয়। তবে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

নেটিজনরা বলছেন, মানবিক কাজে যদি দোকানিকে মাশুল দিতে হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাবে আর কেউ সহায়তার হাত বাড়াবে না।

প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত পাল জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে অসহায় এক ভিক্ষুক তার কাছে একটি ভিটামিন সিরাপ ক্রয় করতে আসেন।

তার কাছে ওষুধের নির্ধারিত টাকা না থাকায় তাকে সিরাপটি মানবিক কারণে মাত্র ১০০ টাকায় প্রদান করা হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সমিতির নেতারা একদিনের জন্য ফার্মেসি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সমিতি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া কেমিস্ট এন্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বলেন, দোকান বন্ধ করতে সমিতি কোনো নির্দেশনা দেয়নি। প্রগতি মেডিকেল হল ভেজাল ওষুধ বিক্রি করায় তার দায় স্বীকার করে একদিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে দয়া দেখালে তিনি (সুদীপ্ত পাল) ওষুধ একেবারে ফ্রি দেবেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে তিনি ১০০ টাকা রেখেছেন। তারা প্রায়ই কম দামে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষমতা কোনো সংগঠনের রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অপরদিকে, ফাতেমা মেডিকেল হল নামের বৃহৎ ওষুধ দোকানি মোশাররফ হোসেন বলেন, এর আগে তার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে এই সমিতি কর্তৃপক্ষ।

মূলত, মোড়কে বেশি মূল্য লেখা (এমআরপি) ওষুধগুলো ক্রেতাদের কাছে একটু কম দামে বিক্রি করার জন্য সমিতির কাছে বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখনোই এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হননি।

এছাড়াও একাধিক ওষুধ দোকানির অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে এক ধরনের জুলুম করা হচ্ছে। এদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তাই অনেক দোকানিরা সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক কালবেলাকে বলেন, কোনো সমিতি বা সংগঠন কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে পারে না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।