জাকির হোসেন, আমতলী॥ আমতলীতে রিমালের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের বাড়ি কখনো পায়ে হেটে, কখনো ট্রলারে আবার কখনো গাড়িতে গিয়ে যারা এপর্যন্ত ত্রান পায়নি তাদের খুজে খুজে বের করে খাবার পৌছে দিচ্ছেন আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।
মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতি, শুক্রবার ও শনিবার বিকেল পর্যন্ত আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, ঘোপখালী, আরপাঙ্গাশিয়া, তারিকাটা, আমতলী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী, আমতলী পৌরসভার লোছা, নয়াভাঙ্গলী, বাসুগী, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, বৈঠাকাটা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি, গুলিশাখালী, জেলেপাাড়াসহ কুকুয়া, আঠারগাছিয়া,
চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত তিনি জন প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান, এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসাইনকে সাথে নিয়ে চাল, ডাল, আলু, তেল, গুরোদুধ, খাবার স্যালাইনসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
দুর্যোগের রাতেও তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে সেখানে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের হাতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি , খাবার স্যালাইন তুলে দিয়েছেন।
এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার দুর্গত পবিারের হাতে ত্রান সামগ্রীর খাবার তুলে দিয়েছেন । তার এরকম মানবিক কাজের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবার মুখে মুখে এখন প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
বালিয়াতলী গ্রামের বিধবা সাফিয়া বেগম (৭০) বলেন, ‘বইন্যায় মোর ঘর মেচমার অইয়া গ্যাছে। কেউ মোর খবর লয় নাই। হেইয়ার মধ্যে মোর বাড়ি আইয়া স্যারে চাউল ডাইল, ত্যাল আলুসহ সব দিয়া গ্যাছে।
মোর জীবনে এইরহম লোক দেহি নাই।’ একই গ্রামের শহিদুল বয়াতী বলেন,‘মুই এই রহম অফিসার দেহি নাই ব্যামালা রাস্তা আইট্যা আইয়া মোর আতে ত্রান দিয়া গ্যাছে।
আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দিন রাত সবসময় স্যারে এলাকায় ঘুরে ঘুরে দুর্গত মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছেন।
দুর্যোগের পর আমাদের সাথে নিয়ে স্যারে হেটে হেটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌছে দিয়েছেন। তিনি অত্যান্ত একজন সৎ এবং মানবিক ও কাজ পাগল ইউএনও।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, রিমালের তান্ডবে আমতলী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙ্গার ফলে সেকানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেশী। সেখানে এখনো অনেক গ্রামে পানি জমে আছে।
আমি চেষ্টা করছি যাতে দুর্গত মানুষ খাবার পায়। এজন্য আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে যারা এখনো কোন ত্রান পায়নি তাদের খুজে খুজে বের করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। আমার কষ্ট হলেও মানুষ যাতে শান্তি পায় এটাই আমি চেষ্টা করছি।