জাকির হোসেন, আমতলী॥ ‘মোর ঘর গরু সব গ্যালো এহন মুই কুম্মে যামু কি হরমু’ একথা বলছিলেন আর শুধু কান্না করছিলেন আমতলী পৌরসভার দিনমজুর মস্তফা গাজীর স্ত্রী গৃহবধূ মায়ছুরা বেগম। সোমবার সকালে ভয়াবহ রিমেলের তান্ডবে ছুরিকাটা গ্রামের মস্তফা গাজীর লক্ষাধিক টাকার ১টি গরু ও ঘামের টাকায় বানানো ১টি টিনের ঘর চোখের সামনেই গাছ চাপায় সম্পূর্ন বিধস্ত হতে দেখে আক্ষেপ করে একথা বলছিলেন। মস্তফা গাজী পেশায় একজন দিন মজুর।
ছোট বেলা থেকেই দিন মজুরি করে সংসার চালাতেন। এরপর তিনি মায়ছুরাকে বিয়ে করে সংসারী হন। তাদের রয়েছে রিয়ান ও জামিল নামে ৮ ও ৬ বছরের দুটি সন্তান। তাদের দুজনকে স্কুলে ভর্তি করেন। মস্তফা গাজী এবং মায়ছুরা স্বপ্ন দেখতেন নিজেরা লেখাপড়া না করলেও তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষার আলোয় শিক্ষিক করবেন।
তাই দিনমজুরি করে যা পান তাদিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দু’সন্তানকে শিক্ষিত করার জন্য স্কুলে ভর্তি করেন। লেখাপরার খরচ চালানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যতের জন্য সামন্য টাকা জমা করে ১০ হাজার টাকায় চার বছর আগে ১টি গরু কিনেন। গরুটি হৃষ্টপুষ্ট হয়ে এখন প্রায় লক্ষাধিক টাকার স¤পদে পরিনত হয় মস্তফা দম্পতির ।
দিনমজুরির পাশাপাশি প্রতিদিন পালা করে মস্তফা ও তার স্ত্রী মায়ছুরা বেগম গরুটি লালন পালন করতেন। স্বপ্ন দেখতেন এই গরু দিয়ে তাদের দুসন্তানের ভষ্যিৎ রচনা করবেন। কিন্তু তাদের সে আশায় গুরে বালি। সোমবারের ভয়াবহ রিমেলের তান্ডবে মস্তফা গাজী ও মায়ছুরার সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুর করে দেয়।
আকস্মিক বাড়ির দক্ষিন পাশের বিশাল আকারের এক চাম্বল গাছ গোয়াল ঘর ও বসত ঘরের উপর আছরে পড়লে মুহুর্তেই চাপা পরে তাদের স্বপ্নের লালিত গরুটি মারা যায় এবং বসত ঘরটি বিধস্ত হয়।
তারা দুই ছেলে নিয়ে কোন রকম ঘর থেকে বের হয়ে প্রানে রক্ষা পান। ঘরের মালামাল সহ সব কিছু গাছ চাপায় চূর্ন বিচুর্ন হয়ে যায়। নিজেদের ঘামে শ্রমে এবং রক্তে মেশানো টাকায় তিলে তিলে গরে তোলা ঘর ও গরু হাড়িয়ে দুজনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এভাবে তাদের চোখের সামনে তাদের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যাবে তা তারা কখনো ভাবতেই পারেনি। এখন তারা প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়ে শুধু কান্না করছেন আর দীর্ঘ শ্বাস ফেলছেন। সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাছ চাপায় মস্তফা গাজীর ঘরটি সম্পূর্ন বিধস্ত হয়েছে।
এলামেলো ভাবে পরে আছে ঘরের হারিপাতিল পুরানো কাপর চোপর। পাশেই গোয়াল ঘর। যেটি গাছ চাপায় এমন অবস্থা হয়েছে যে ঘরের কোন চিহ্নই বোঝা যায় না।
কান্না জড়িত কন্ঠে মায়ছুরা বেগম বলেন, মোর সব শ্যাষ অইয়া গেছে। গুরু গ্যাছে ঘরও গ্যাছে এহন মুই পোলা দুইডারে কি দিয়া লেহা পড়া করামু। আর কি দিয়া খামু। কোন হানেই বা থাকমু। কথা গুলো বলছিলন
আর বার বার চোখ মুছলিনে।
মস্তফা গাজী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর সব বইন্যায় শ্যাষ কইর্যা দিছে মুই আর বাইচ্যা থ্ধাসঢ়;ইক্যা লাভ কি এই বলে কান্না জড়িত কন্ঠে চোখ মুছতে মুছতে চলে যান আবার প্রতিবেশঅর ঘরে।
প্রতিবেশী দেলোয়ার গাজী বলেন, মস্তফা গাজী ও মায়ছুরা ব্যামালা কষ্ট কইর্যা ঘর উডাইছে হেইআার পর গরু কিনছে। গরু গ্যাছ ঘর গ্যাছে এহন অরা ব্যামালা কষ্টে আছে। ওগো লইগ্যা সরকারের কিছু একট করা দরকার।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, রিমেলের আগাতে এই দরিদ্র পরিবারটি তাদের ঘর গরু হারিয়েছে। বিষয়টি আমি জেনেছি। বিষয়টি অত্যান্ত মানবিক। এই পরিবারকে সরকারী ভাবে সহযোগিতা করা হবে।