আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে শনিবার দুপুরে পতিত জমিতে বিনাচাষে লবন সহিষ্ণু জাতের উৎপাদিত গম কর্তন করা হয়। এ কর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরগুনার সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু। তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামে গম কর্তন অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মো. জোদায়দুল আলম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষক ইদ্রিস হাওলাদার, তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবু-উল কবির জোমাদ্দার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান তনু প্রমুখ। স্থানীয় কৃষক উদ্রিস হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী হওয়ায় এখানকার আবাদি জমিতে লবনাক্ততার পরিমান খুব বেশি।
এ কারনে তারা বছর শুধুমাত্র আমন ধান আবাদ করতে পারেন। ডিসেম্বরে আমন ধান কাটার পর শুকনো মৌসুমে জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় এসব জমিতে আর কোন ফসল ফলানো যায়না। বর্ষা এলেই আবার আমন ধান চাষাবাদ করেন তারা। ফলে এখানকার কৃষি জমি বছরের প্রায় ৮ মাসই পতিত থাকে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের পতিত জমির পরিমান প্রায় এক লাখ হেক্টর। গম চাষী ইউসুফ হাওলাদার বলেন, আমাদের জমিতে বছরে একটি মাত্র ফসল আমন ধান আবাদ করতে পারতাম। শুকনোকালে জমিতে মাত্রারিরিক্ত লবনাক্ততার কারনে আর কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়না। তবে গম আবাদের প্রকল্পের লোকজন আমাদের বিনা চাষে গম উৎপাদনের পদ্ধতি হাত-কলমে শিখিয়ে দিলে এ বছর ১ বিঘা জমিতে গম আবাদ করি।
এক বিঘা জমিতে যে ফলন হয়েছে তাতে ৮ থেকে ১০ মণ গম পাবো। নামেমাত্র খরচে পতিত জমিতে গম উৎপাদন করতে পেরে আমি খুশি। এ ধরনের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনতে অস্ট্রেলিয়ার এসিআইএআর (অস্ট্রেলিয়া সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ) প্রকল্পের সহায়তায় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট‘র যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন কেজিএফ)‘র অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব ওয়ের্স্টান অস্ট্রেলিয়া, সিএসআইআরও (ঈঝওজঙ), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি যৌথ প্রকল্পের আওতায় গত ২০১৭ সন থেকে গবেষণা করে আসছে। এ গবেষণার অধীনে তলতলী উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে ২০ জন কৃষক গম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি প্রজেক্ট লিডার ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে দেশের উপকূলীয় এলাকায় জমির লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। ফলে শুস্ক মৌসুমে এক লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমি পতিত থাকছে। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরও যৌথ ভাবে গম ফসলের জাত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গত ৫ বছর ধরে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, দক্ষিনাঞ্চলের তিনটি জেলা পটুয়াখালী, খুলনা, সাতক্ষীরায় এ ফসলের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে যার মাধ্যমে উপকূল অঞ্চলে আমন ধান কাঁটার পর বিস্তীর্ন পতিত জমিতে চাষাবাদ করে শুস্ক মৌসুমে কৃষকরা একটি অতিরিক্ত ফসল ঘরে তুলতে পারবে। তিনি আরও বলেন, পটুয়াখালীর ৬ জেলা ও খুলনার বাগেরহাট, সাতক্ষিরা জেলায় কমপক্ষে এক লাখ হেক্টর লবনাক্ত পতিত জমিতে এরকম বিনাচাষে গম আবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের আর এসব জমিতে গম চাষ করা গেলে কমপক্ষে ৩ লাখ টন গম উৎপাদন সম্ভব। তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতিতে গম আবাদের জন্য কৃষকদেরকে আমরা এমনভাবে উব্দুদ্ধ করেছি যাতে তারা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও স্বউদ্যোগে নামে মাত্র খরচে গম উৎপাদন করতে পারেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী হওয়ায় এখানকার আবাদি জমিতে লবনাক্ততার পরিমান খুব বেশি। এ কারনে তারা বছর শুধুমাত্র আমন ধান আবাদ করতে পারেন। ডিসেম্বরে আমন ধান কাটার পর শুকনো মৌসুমে জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় এসব জমিতে আর কোন ফসল ফলানো যায়না। বর্ষা এলেই আবার আমন ধান চাষাবাদ করেন তারা। ফলে এখানকার কৃষি জমি বছরের প্রায় ৮ মাসই পতিত থাকে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের পতিত জমির পরিমান প্রায় এক লাখ হেক্টর।