স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী : বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চলছে হাতির চাঁদাবাজি। প্রায়ই এমন চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষ। মঙ্গলবার উপজেলার বেতাগী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারগুলোতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে হাতির চাঁদাবাজির কথা জানা যায়। এতে বেতাগী পৌর শহরের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পৌরসভার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাজারের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের মোড় হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে দুজন মিলে একটি বড় হাতি নিয়ে হানা দেয়। দোকানপ্রতি কমপক্ষে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়।
হাতি নিয়ে দোকানের সামনে এসে তারা দাঁড়ান, টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে হাতি সরানো হচ্ছে না। এভাবে টাকা আদায়ের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয়েও সমস্যা হচ্ছে। এছাড়াও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে টাকা আদায়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। বড় দোকানে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছেন। বেতাগী পৌরসভার কালিবাড়ি সড়কে সাত রঙ গার্মেন্টসের সত্ত্বাধিকারী ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সুমন গুহ বলেন, হাতিকে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দোকানের মধ্যে হাতি ঢুকে যায় পরে টাকা দিলে বের হয়।’ পৌরসভার বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করা হয়।
বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। মঙ্গলবার বিকালে বেতাগী পৌর শহরের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বড় হাতির পিঠে বসে একজন হাতিটিকে পরিচালনা করছেন এবং অন্য আরেক যুবক হাতির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছেন। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরানো হয় না।
পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ও হাতির মালিক রাকিব বলেন, হাতির খাবারের জন্য অনেক খরচ, কি করব! বাধ্য হয়ে দোকানে দোকানে যাই। যে যা দেয় তা নিয়েই চলে আসি। বাজারের আরো দুই ব্যবসায়ী বলেন, প্রায় প্রতিদিনই অনেক খাতে টাকা দিতে হয়। বর্তমানে হাতিকেও দিতে হচ্ছে।
বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক। বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার ঢালী বলেন, ‘বনের পশু পালনের জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। সার্কাস দলে পালনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বন্য এসব পশুর যাবতীয় দায়িত্ব মালিকের। এভাবে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বড় হাতি অথবা বাচ্চা হাতি দিয়ে এভাবে টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’ বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, এভাবে বন্যপশু দিয়ে টাকা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘