স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ বরগুনার বেতাগী প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্বেচ্ছাচারিতায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন উপজেলার ভুক্তভোগী জনসাধারণ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ওষুধ বরাদ্দের বৃহৎ অংশ স্থানীয় ফার্মেসিতে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিনই শতাধিক সেবা নিতে আসা জনসাধারণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন।
এছাড়া অফিস চলাকালীন সময় এই দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হয় এটা তাদের জানা নেই ,এমন তথ্য প্রকাশ করেন অফিস কর্তৃপক্ষের পক্ষে তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারিরা। আজ রবিবার (২ জুন) দুপুর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ২ টা ৪০ মিনিটে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের সকল কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর সংবাদকর্মী তথ্য নিতে এসেছে এমন খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয় তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারি সাহেব আলী ও অমল কৃষ্ণ হাওলাদার। অফিসে কোন কর্মকর্তা নেই কেন এবং সকল কক্ষে অফিস চলাকালীন সময় তালাবদ্ধ রয়েছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অমল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন,’ অফিসে কর্মকর্তা , ভেটেরিনারি সার্জন নেই। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছে।’
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক আব্দুস সোবাহান হাওলাদার বলেন,’ এই দপ্তরে যেদিন আসি সেদিনই কোন চিকিৎসক পাইনা। অফিসের দু’একজনে বলেন, ডাক্তার ছুটিতে রয়েছে, ট্রেনিং আছেন অথবা বাহিরে আছেন। বাদ্য হয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারিদের দ্বারা ওষুধ লিখে নিতে হচ্ছে।’ অফিস সংলগ্ন একাধিক বাসিন্দা বলেন,‘ এই অফিসে কোন পতাকা উত্তোলন করতে দেখি নাই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জাতীয় পতাকা টাঙানো নেই কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি সাহেব আলী বলেন, আমরা কোনদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি না।এটা আমাদের ডাক্তাররা টাঙাতে কোনদিন বলেননি। জাতীয় দিবস ছাড়া পতাকা উত্তোলন করতে হবে এটা আমাদের জানা নেই। ‘
বেতাগী উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি কামাল হোসেন খান বলেন,’ সরকারি ভালো এমন একটা দপ্তরে অফিস চলাকালীন সময় কর্মকর্তাদের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকবে, জাতীয় পতাকা যথারীতি উত্তোলিত হবে না। স্বাধীনতার পরবর্তিতে এমন ঘটনা বিরল। তবে এসব অনিয়মের বিষয় আমলে নিয়ে এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে বিচার হওয়া দরকার।
মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: হাবিবুর রহমান বলেন,’ অফিস চলাকালীন সময় অফিসে কেউ থাকবে না, এটা হতে পারে না। জাতীয় পতাকা টাঙানো উত্তোলন করেনি, এটা বড় ধরণে ভুল করেছে। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’
এবিষয় নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের সাথে। তিনি বলেন,’ সরকারি অফিসে অবশ্যই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। অফিসে যেহেতু কোন কর্মকর্তা নেই, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা। তার মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’