বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগীতে নিয়োগ বাণিজ্য করতে না পেরে পরপর তিনবার পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার অভিযোগ উঠেছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারি কাম হিসাব সহকারি, আয়া, নৈশ্য প্রহরি ও অফিস সহায়ক পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান একাধিক প্রার্থীর থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। গত বছরের ১৩ই ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষা স্থগিত হয়। এরপর নিয়োগ বোর্ড ২৮শে ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করলেও প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছামতো প্রশ্ন না হওয়ায় দ্বিতীয় বার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়।
আজ শুক্রবার (১০ মে) সকাল ৮ টায় তৃতীয়বার বারের মত ৫ টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়। এতে দুর্ভোগে পরে চাকুরি প্রত্যাশায় আবেদনকারিরা। অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারি মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আমাকে আসতে হয়েছে , এসে জানা গেল নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত। এসময় একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারি কাম হিসাব সহকারি,আয়া,নৈশ্য ও অফিস সহায়ক পদে বিভিন্ন প্রার্থীর থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ নিয়েছে প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান। এক পদের বিপরীতে ২-৩ জনের থেকে টাকা নেয় তিনি। আয়া পদে রিনা রানীর থেকে তিন ধাপে মোট ৭ লাখ টাকা উৎকোচ নেয় প্রধান শিক্ষক ।
এছাড়া সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে গোলাম মোস্তফা কাছ ১০ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। এই পদে আরো দুজনের কাছ থেকে চাকুরি দেওয়া হবে এই প্রত্যাশায় ৬ লাখ টাকা করে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং অবিনাশ হাওলাদারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকার ৪ লাখ হাতিয়ে নেয় প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান। তাদের টাকা লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আরও খোলাসা হয়ে যায়। পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন, টাকা নেয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়।
তবে আয়া পদে রিনার কাছে ৩ বছর আগে ম্যানেজিং কমিটি টাকা নিয়েছে এবং বর্তমানে কিছু খরচ টাকা চাওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজী বলেন, বিদ্যালয়ে শূন্য এবং সৃষ্টিসহ ৫ টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। মেধা মূল্যায়নে ৫ টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক টাকা নেয়ার অভিযোগে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।