স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী॥ উপকূলীয় জনপদে কয়েকদিন ধরে কনকনে শীত আর বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বরগুনার বেতাগীতে আজ বেলা বাড়লেও দেখা মিলছে না সূর্যের। হাড় কাপানো তীব্র শীত ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে। মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, বিকেলে মাঝারি ধররণের বৃষ্টি । সেই সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস বইছে। এতে খেটে খাওয়া দিন মজুর পরিবারগুলোর জীবন যাত্রা অচল হয়ে পড়ে। কনকনে শীতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালের তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনের সবোর্চ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ। এর সাথে ঘনকুয়াশা ও মেঘ থাকবে। মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরো কমবে। জানুয়ারি মাস জুড়েই এমন অবস্থা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। কনকনে শীতে বৃষ্টির কারণে খেটে-খাওয়া দিনমজুর, গরিব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ সময়মত কাজে যেতে পারছে না। এদিকে তীব্র শীতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
সদর ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামের রিকশা চালক নুরুজ্জামান বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত এর মধ্যে বৃষ্টি পরে। এখন ক্যামনে রিকশা চালামু। রাস্তায় কোনো টিরিপ নাই, কামাই নাই, খামু কি হেই চিন্তায় আছি।’
পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্ধ রিকশা চালক রাখাল চন্দ্র ঢালী বলেন,’ এই শীত রিকশা চালাতে যাইয়া মোর হাত পা অবশ অইয়া যায়। কি আর করুম সোঙসারে (সংসার) খোড়াইক যোগাইতে অইবে, ছেলে-মেয়ের পড়ালেহা খরচ, এছাড়া কিস্তির টাহাও (টাকা) যোগাইতে অইবে।’
শীত মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বেতাগী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন,’ শীত নিবারণে ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরিব মানুষদের শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। সাধারণত শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই শিশুদের ওপর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।