• ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৪, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত
স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা):
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
এ কবিতাংশটুকু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘ ফুল ফুটুক না ফুটুক’।  আর কয়েক গ্রহর পরে শুরু হবে ঋতূরাজ বসন্ত। প্রকৃতি তার আপন মহিমায় ঋতুরাজ বসন্তের আগমনি বার্তায় শুরু হয়েছে কোকিলের কুহু কুহু ডাকের ধ্বনি। বৃক্ষে বৃক্ষে সেজে উঠেছে সবুজ প্রকৃতি। ঋতুরাজ বসন্তে গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে রাঙিয়ে ফুটেছে শিমুল ফুল। শিমুল ফুলের রঙিন পাঁপড়িতে রাঙিয়ে তুলেছে প্রকৃতি। ঋতুরাজ বসন্তেরর আগমনে নতুন সাজে সেঁজেছে প্রকৃতি।
 এরই মধ্যেই প্রকৃতিতে বইতে শুরু করছে বসন্তের হাওয়া। ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজা কড়া নাড়ছে। বসন্তের আগমনী বার্তা পেয়ে শীতের রিক্ততা বুলিয়ে ফাগুনের আগুনে মানুষের মন আর প্রকৃতি লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। বসন্তের রঙ্গে ও রুপে নিজেকে সাজাতে প্রকৃতি মেতে উঠেছে। প্রকৃতি ধারণ করতে শুরু করছে অপরূপ লাবণ্য ভরা মনোহরি সৌন্দর্যে।
ফাগুনের আগুনের শীতের তীব্রতা রক্ষতা কেটে পাতাঝরা বৃক্ষগুলি মাথায় দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা, কলি ফুল প্রকৃতিতে বসন্তের সাজ-সাজ রব।
ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই শিমুল ফুলের স্বর্গীয় সৌন্দর্যে নান্দনিক হয়ে উঠেছে প্রকৃতি ও গ্রামের পরিবেশ। শিমুল ফুলের আভা জানান দিচ্ছে বসন্ত বুঝি এলোরে। ষড় ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।
প্রতিটি ঋতুই যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। চারিপাশে নানা বর্ণের ফুলে ফুলে সাজানো। শীতের বিদায়লগ্নে আর ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য শিমুল ফুলের রঙিন পাঁপড়িতে নতুন সাজে সেজে ওঠে প্রকৃতি।
 গ্রামাঞ্চলের পথে-প্রান্তরে, নদী বা পুকুরপাড়ে, মাঠে-ঘাটে, বাড়ির আঙিনায় এবং অফিসের ধারে রক্তিম ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির কোলে। তবে আজ অম্লান অতীতের স্মৃতি।
 সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনদিন কমে যাচ্ছে মূল্যবান শিমুল গাছের সংখ্যা। এক সময় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। আর এই গাছের উৎপাদিত তুলা গ্রাম-গঞ্জে খুব জনপ্রিয় ছিলো।
এছাড়া ঔষধি গাছ হিসেবেও বেশ পরিচিত। গ্রামের মানুষ বিষ ফোড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস এবং কোষ্ঠকাঠিণ্য নিরাময়ে ব্যবহার করতো শিমুল গাছের মূল। এই শিমুল গাছের তুলা দিয়ে সুতা, বালিশ, লেপ, তোষকসহ হরেক রকমের বেডিং নির্মাণে কোনো জুড়ি ছিল না। এক সময় নিজের শিমুল গাছের তুলা বিক্রি করে সাবলম্বী হয়েছে অনেকে ।
ফাগুনের প্রথমেই লাল রঙের ফাগুন ঝরা রঙিন পাঁপড়িতে রাঙিয়ে যেত শিমুল গাছ আর চৈত্রের শেষে ফুটন্ত তুলা বাতাসের সাথে উড়ে উড়ে মাতিয়ে রাখতো প্রকৃতিকে। সাঁদা তুলায় ঠেঁকে যেত নীল আকাশ। তখন পরিবেশটাও হতো অন্যরকম।