• ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আমতলীতে মাদরাসার কক্ষ মুছতে বিলম্ব হওয়ায়

ছাত্রকে বেধড়ক মারধর

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৪, ১৭:৫২ অপরাহ্ণ
ছাত্রকে বেধড়ক  মারধর

আমতলী প্রতিনিধি: আমতলীতে হুজুরের নির্দেশমত মাদরাসার রুম না মোছায় আরিফুল ইসলাম (১১) নামে এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে শহরের প্রানকেন্দ্রে অবিস্থত আরকাস দারুল মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এঘটনা বাবা মাকে না জানানোর জন্য শাসায় ওই দম্পত্তি। সোমবার দুপুরে মা এঘটনা জানার পর ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খলিফার ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে হাফেজি পরানোর জন্য আমতলী পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ডের আলহেলাল মোরের শাকিব প্লাজার তৃতীয় তলায় অবিস্থিত আরকাস দারুল মডেল মাদরাসার নাজেরা শাখায় ভর্তি করেন।

ভর্তির পর থেকে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু আক্কাস হেললী তাকে দিয়ে মাদরাসার বিভিন্ন কক্ষ মোছানো সহ বিভিন্ন কাজ করাতো। সোমবার সকাল ৭টার সময় মাদরাসার হুজুর আবু আক্কাস হেলালী আরিফুল ইসলামকে মাদরাসার ৪টি কক্ষ পানি দিয়ে মোছার নির্দেশ প্রদান করেন।

তার নির্দেশ মত কক্ষ মুছতে বিলম্ব হওয়ায় আরিফুল ইসলামকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে চাবির রিং কোরআন শরিফ রাখার রেল ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক ব্যাপক মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে এঘটনা তার বাবা মাকে না বলার জন্য শাসায়। ওই দিন দুপুরে আরিফুলের মা ছেলের সাথে দেখা করতে গেলে আরিফুল তখন কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং মাকে নির্যাতনের সব কথা জানায়। এসময় তার মা ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেকে তার বাড়ি নিয়ে যান। নির্যাতিত অরিফুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, হুজুরে আমারে দিয়া প্রত্যেক দিন দালানের ৪ডা কইর‌্যা রুম মোছায়। মুই না পারলে ব্যামালা মাইর ধইর করে।

সোমবার সকালে হুজুরে মোরে ৪ডা রুম মোছতে কয়। মোর শরীর ভাল না লাগায় রুম মোছতে দেরি অওয়ায় হুজুরে মোরে হের রুমে নিয়া হে আর হের বউ চারি রিং, কোরআন শরীফ রাখল রেল, আর লাঠি দিয়া ব্যামালা মাইর ধইর কইর করছে। মাইর ধইরের কথা মা বাবাকে জানাইতে মানা করে। জানাইলে মোরে মাইর‌্যা হালাবইবে বইল্যা হুজুরে মোরে কয়। ভর্তির পর হইতেই হুজুরে মোরে দিয়া খালি হের বাসার কাম করায়। কাম করতে না পারলে খালি খালি মারে। দেয়ালের লগে মাথা ধইর‌্যা টাক দেয়।

আরিফুলের মা মাসুমা বেগম বলেন, সোমবার দুপুরে মোর পেলাডারে মাদরাসায় দেখতে গেলে হুজুরে আমার সাথে দেখা করতে দেবে না। হেইয়ার পর জোর করলে হে মোর পোলাডারে মোর সামনে আনার সাথে সাথে পোলায় কান্না কাটি শুরু করে। আর বলে মুই আর পড়মু না। ওই সময় মুই পোলাডারে বাসায় লইয়ায়। বাসায় আইন্যা পোলার জামা খুইল্যা দেহি হের পিডে, আতে কালা দাগ। হের পর পোলায় দেহি দিক বেদিক কয়।

রাইতে দেহি পোলার গায় ব্যামালা জ্বর আইছে। মঙ্গলবার পোলার বাহেরে জানাইলে হে টাহা পাডায় হেইয়া লইয়া হাসপাতালে ডাক্তার দেহাইয়া বাড়ি আনি। মুই এইয়ার বিচার চাই। অভিযুক্ত আরকাস দারুল মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আক্কাস হেলালী রুম মোছানোর কথা স্বীকার করলেও মারধরের কথা অস্বীকার করেন। আমতলী পুলিশ পরিদর্শক ওসি তদন্ত মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া