• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আমতলীতে ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে ২৭ গ্রাম প্লাবিত

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মে ২৬, ২০২৪, ১৮:৩৩ অপরাহ্ণ
আমতলীতে ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে ২৭ গ্রাম প্লাবিত

আমতলী প্রতিনিধি॥ ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে রবিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পায়রা নদীতে স্বাভাবিত জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমতলীর আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবেশ করে ২ গ্রামসহ আমতলী ও তালতলীর বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের
বাইরের আরো ২৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানির তোরে ভেসে গেছে শত শত পুকুরের কোটি টাকার মাছ। পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে দুর্যোগ আতঙ্কে আমতলী তালতলী উপজেলার ২৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে আসমতলী – বরগুনা রুটের ফেরি চলাচল।

আমতলীর আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পরভীন মালা জানান, পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর বুনিয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের প্রায় ৩শ’ ফুট ভেঙ্গে যাওয়ায় বালিয়াতলী ও পশুরবুনিয়া গ্রাম ২-৩ ফুট পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ওই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পরেছে।

ভেসে গেছে আউষ আবাদ বোরো ধনের ক্ষেত এবং শত শত পুকুরের কোটি কোটি টাকার মাছ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফেলতির কারনে বাঁধ ভেঙ্গে জাওয়ায় এখন গ্রামবাসী বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।


পশুর বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুনীতির কারনে দায়সারা ভাবে বাঁধ নির্মান করায় এখন পানির তোরে বাঁধ ভেঙ্গে মানুষের কোটি কোটি টাকার বোরো আউষ এবং পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হিমেল বলেন, আমতলীর পশুরবুনিয়া বাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, তালতলী উপজেলার তেতুর বাড়িয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধে ৩-৪ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেখানকার কয়েশ পরিবার ঝুকির মধ্যে রয়েছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে আমতলীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাইরের অবস্থিত আরপাঙ্গাশিয়া, তারিকাটা, লোছা, বৈঠাকাটা, বাসুগি, নয়াভাঙ্গলী, ফেরিঘাট, খাদ্যগুদাম সংলগ্ন চর, ওয়াপদা চর, পশ্চিম ঘটখালী, আংগুলকাটা, গুলিশাখালীর জেলেপারা তলিয়ে গেছে।

তালতলী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে অবস্থিত মরানিদ্রা, আগাপাড়া, মেনিপাড়া, গোড়াপাড়া, অংকুজানপাড়া, মোয়াপাড়া, নামিশেপাড়া, ছোবাহাপাড়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা, আশারচর, তেতুল বআড়িয়া, জয়ালভাঙ্গা, সকিনা, আমখোলাসহ দুই উপজেলার শতাধিক কাঁচা ঘড়বাড়ি তলিয়ে গেছে।

এসল এলাকার ঘড় বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধী অবস্থায় দিন পার করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি মাপক মো. আবুল কালাম জানান, রেমালের প্রভাবে আমতলীর পায়রা নদীতে রবিবার সকাল থেকে ৪-৫ ফুট বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সরেজমিন ফেরিঘাট, বৈঠাকাটা ও লঞ্চঘাট বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের বারে ঘুরে দেখা গেছে, জেলে পল্লীর সক ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, সেখানে বেসরকারী সংগঠন এনএস, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য কাজ করাসহ ঘুর্ণিঝরের বার্তা প্রচার করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরসহ ওই এলাকার বেদে পল্লীসহ বেশ কিছু পরিবার ওয়াপদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তাদের শুকনো খবার চিরা মুড়িসহ পানি সরবরাহ করছে এনএসএস ও ওয়ার্ল্ড ভিশন।
দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা বেসরকারী সংগঠন নজরুল স্মৃতি সংসদ-এনএসএস এর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পান্না
বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আমাদের সংগঠনের ৪শতাধিক স্বেচ্চাসেবক প্রস্তত রাখা হয়েছে।

তারা দুর্যোগের সংকেত প্রচারসহ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের শুকনো খবার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছি।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুমপা জানান, ঘূর্নিঝড় রেমালের প্রভাবে তেতুল বাড়িয়া বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। আমি শনিবার বিকেলে সরেজমিন ঘুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জানিয়েছি।

তিনি আরো জানান রেমাল মোকাবেলা জন্য উপজেলার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৩১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম জানান, রেমালের প্রভাবে আরপাঙাগাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্র বাঁধ ভেঙ্গে ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। এবং ভাঙ্গা বাঁধে জিওব্যাগ ফেলে পানি বন্ধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, রেমাল প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য আমতলী উপজেলার ২২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আমতলী-বরগুনা রুটের চলাচল কারী ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আমতলীর পশুর বুনিয়া ও তাতলীর তেতুল বাড়িয়া বাঁধ নির্মানে দায়সারা ভাবে কাজের অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে তার সরকারী মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইল (০১৩১৮২৩৫৩৭৩)