১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশের সঙ্গে একযোগে বরিশালেও চলছে নৌ-ধর্মঘট। বুধবার সকাল থেকে বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের বরিশালের সভাপতি হাশেম আলী।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নৌ ধর্মঘট ডাকা হলে ৪৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সেই দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই পুনরায় ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ বা দূর পাল্লা রুটের কোনো নৌ-যান ছেড়ে যায়নি। অনেক নৌযান বরিশাল নদী বন্দর থেকে সরিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। ফলে বরিশাল থেকে ভোলা-লক্ষীপুর-বরগুনা-মেহেন্দীঞ্জ-হিজলাসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা পরেছেন চরম ভোগান্তিতে। নৌ-বন্দরে এসে অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নৌ-যান চালক ও শ্রমিকরা জানান, ২০১৬ সাল থেকে ১১ দফা দাবিতে দেশব্যাপী নৌ-যান শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করে। এরপর সরকার ও মালিক পক্ষ কয়েকটি সভা করে দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে ঐ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। বেতন ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন, সার্ভিস বুক তৈরি, নৌ-পথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ মোট ১১ দফা ন্যায্য দাবি আদায়ে এ ধর্মঘট চলছে বলে জানান তারা।