স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিদ্রোহী প্রার্থী, ইন্দনদাতা ও তাদের সহযোগিতাকারী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা বা শাস্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে আজ শনিবার। তাদের কার কার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ সাংগঠনিক সম্পাদকরা যৌথসভায় তা তুলে ধরবেন। নেতাদের অভিযোগের ওপর নির্ভর করে শাস্তির বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। তবে যে শাস্তিই হোক না কেন অভিযুক্ত নেতারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।
দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আজকের যৌথসভায় সিদ্ধান্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ যাবে। তাদের তিন সপ্তাহ সময় দেয়া হবে নোটিশের জবাব দেয়ার জন্য। এর মধ্যে যারা জবাব দেবেন তাদের জবাবের গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শাস্তি নির্ভর করবে। আর যারা শোকজের জবাব দেবেন না তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
দলের একটি সূত্র জানায়, তাদের শাস্তি কী হতে পারে সে বিষয়ে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়ে গেছে। দলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিষয়টি বলা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যেসব নেতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী হয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়েছেন তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। এ-সংক্রান্ত চিঠি শিগগিরই কেন্দ্রীয় দফতর থেকে ওইসব প্রার্থীর কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্দন দিয়ে যারা দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদেরকে শোকজ করা হবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা শোকজের জবাব দেবেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তা যাচাই-বাছাই করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে শনিবার দলের যে যৌথসভা হবে সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।’
কী ধরনের শাস্তি হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটাও যৌথসভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বলা যাবে।’
দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এক যৌথসভা শনিবার বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বরিশাল বিভাগের তালিকা নেতাদের তালিকাঃ
বরগুনা:৯৪. আমতলী উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামসুদ্দিন সজু, ৯৫. আমতলী উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান,
পটুয়াখালী:৯৬. সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম মৃধা, ৯৭. দুমকিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান সিকদার, ৯৮. মির্জাগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, ৯৯. দশমিনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ বশার ডাবলু, ১০০. জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাখাওয়াত শওকত হোসেন, ১০১. উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী আবু বক্কর সিদ্দিক,
ঝালকাঠি:১০২. সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম, ১০৩. সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ১০৪. রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিলন মাহমুদ বাচ্চু, ১০৫. কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সিকদার, বরিশাল:১০৬. হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন ঢালী, ১০৭. বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রিপন।
পিরোজপুর:১০৮. সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, ১০৯. নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের কর্মী অ্যাডভোকেট দিপ্তীশ হালদার, ভোলা:১১০. তজুমদ্দিনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মোশারফ হোসেন।