• ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

নড়েচরে বসেছে জেলা প্রশাসন

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯, ১৫:০১ অপরাহ্ণ

আনোয়ার হোসেন ॥ নিরাপত্তার মধ্যে অনিরাপদ শিরোনামে দৈনিক দেশজনপদ পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর নড়েচরে বসেছে জেলা প্রশাসন। তড়িৎ পদক্ষেপে পাতারি গুছিয়ে শেখ রাসেল শিশু পরিবার থেকে অবৈধ বসবাসকারীদের যাওয়ার জন্য একমাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বালিকা এ পরিবারটির ক্যাম্পাসে কোন বহিরাগতদের বসবাস করার সুযোগ দেয়া হবে না। এমনকি সমাজ সেবা দপ্তরের অন্য বিভাগের কর্মচারীদেরও থাকতে দেয়া হবে না। উল্লেখ্য শেখ রাসেল বালিকা শিশু পরিবারটিতে ঝুঁকিপূর্ন পরিস্থিতির শিকার বালিকাদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত থাকা, খাওয়া, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পূণর্বাসন সহ নিরাপত্তা দেয়া হয়। কিন্তু অন্য শাখার একাধিক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজন সহ সাবলেট দিয়ে শিশু পরিবারটির ক্যাম্পাসের একাধিক স্থাপনা দখল করে। এতে বালিকা নিবাসীদের বসবাসে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে, বরিশাল জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান বলেন, ওই প্রকল্পটির সংশ্লিষ্ট জনবল ছাড়া কোন পরিবার থাকতে পারবে না এবং তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এক মাসের মধ্যে চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এহেন বিষয়টি সমাজসেবার ডিডি’র নিকট জানালেও তিনি বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেন। অপরদিকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসন কেন্দ্র’র উপ-প্রকল্প পরিচালক সুভঙ্কর ভট্টাচার্য্য বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের কেন্দ্রে তত্ত্বাবধায়ক/উপতত্ত্বাবধায়ক এর বাসগৃহ থাকবে। আর আমাদের বালিকা কেন্দ্রে বহিরাগত ব্যাচালারদের আনাগোনার বিষয়টি আপনারা তো সরেজমিনে দেখেছেনই। সূত্রে জানাগেছে, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর সমাজ সেবার মহাপরিচালকের আদেশে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসন কেন্দ্রটি (বালিকা) পরিচালনা করতে দেয়া হয়েছে রুপাতলীর সাবেক র‌্যাব অফিসে। শতাধিক ৬-৭ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বালিকা নিবাসী রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বালক পরিবারকে ভিন্ন আবাসনে রাখা হয়েছে। কিন্তু বরিশালের সমাজসেবা উপ-পরিচালক উক্ত বালিকা পরিবারটির পূনর্বাসন কেন্দ্রে অন্য সেক্টরের দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীদের স্বপরিবারে থাকতে দিয়েছেন। এসুযোগে ওই কর্মচারীরা বহিরাগত যুবকদের সাবলেট দিয়েছে। যেকারনে বালিকা ভবনের সামনে ঐ কর্মচারীদের সাবলেটকৃত যুবক ও বহিরাগতরা গভীর রাত পর্যন্ত আসা যাওয়া সহ মাঠে আড্ডাবাজী করে। এতে নিবাসী বালিকারা সহসা জীবনযাপন থেকে আড়ষ্ট হয়ে পড়ছে। জানা যায়, শেখ রাসেল পূনর্বাসন কেন্দ্রটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করেন। নিবাসির আসন সংখ্যা ২শ জন। ১শ বালক, ১শ বালিকা। বর্তমান নিবাসির সংখ্যা ১শ ৮৯ জন। উপস্থিত মোট নিবাসির সংখ্যা ১৭৬ জন। ৮৪ জন বালক ও ৯২ জন বালিকা। এ পূনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তিযোগ্য শিশুদের ধরন পথ শিশু, শ্রমজীবি শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, পূর্ন সময় গৃহস্থলীর কাজে নিয়োজিত শিশু, হারিয়ে যাওয়া শিশু, বাবা মায়ের øেহ বঞ্চিত শিশু (যেমন এতমি একাবাস করে/ অন্য কোন আত্মীয়র সাথে বাস করে) এমন শিশু, পিতৃহীন/ মাতৃহীন/ এতিম শিশু, (সেক্সুয়াল এ্যাবিউজ/ সামাজিক প্রতিবন্ধী, বঞ্ছনার শিকার), বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিশু (যেমন এতিমখানা, ভবঘুরে উন্নয়ন কেন্দ্রের শিশু) ও নদী ভাঙ্গনের শিকার ও ভাঙ্গা পরিবারের শিশু, আর্থিক অনটনের শিকার শিশুসহ অন্যান্য শিশু। পূনর্বাসন কেন্দ্রে মোট কর্ম পদের সংখ্যা ৩১ জন কর্মরত রয়েছে মাত্র ২৩ জন, পদশূন্য রয়েছে ৮টি।