• ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করুন

চিকিৎসকের ঘাটতি বেশি বরিশালে, ঢাকায় উদ্বৃত্ত

admin
প্রকাশিত জুলাই ২২, ২০১৯, ১৭:৪৫ অপরাহ্ণ
চিকিৎসকের ঘাটতি বেশি বরিশালে, ঢাকায় উদ্বৃত্ত

অনলাইন ডেস্ক ॥ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাহিদার বিপরীতে চিকিৎসক, নার্সসহ জনস্বাস্থ্যকর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে। অথচ ঢাকা বিভাগে রয়েছে অনুমোদিত পদের অনেক বেশি চিকিৎসক। ঢাকা বিভাগে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সরকারি চিকিৎসক রয়েছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি। আর সরকারি চিকিৎসক সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে বরিশাল বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে নবম গ্রেডের চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫ হাজার ৯৫৬টি। এর বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন ৮ হাজার ৪৭০ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের চেয়ে ঢাকা বিভাগে ৪২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি চিকিৎসক আছে। এর উল্টো চিত্র দেশের অন্যসব বিভাগে। অনুমোদিত পদের বিপরীতে সবচেয়ে কম চিকিৎসক রয়েছেন বরিশাল বিভাগে। বিভাগটিতে নবম গ্রেডের অনুমোদিত ১ হাজার ৯১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪০১ জন চিকিৎসক। অর্থাৎ বিভাগটিতে অনুমোদিত পদের ৬৩ দশমিক ২ শতাংশই শূন্য আছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৬২৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে খালি আছে ১ হাজার ১৪৫টি। অর্থাৎ এ বিভাগে নবম গ্রেডের ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ পদই শূন্য আছে। রাজশাহী বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত নবম গ্রেডের চিকিৎসক সংখ্যা ১ হাজার ১৩, অথচ পদ আছে ১ হাজার ৯৩৫টি। রংপুরে ১ হাজার ৫৯২টি পদের বিপরীতে কর্মরত চিকিৎসক ৬৫২ ও খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৬৭৯টি পদের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা ৭৩৫। পাশাপাশি নবম গ্রেডে সিলেটে ৪৯০ ও ময়মনসিংহে ৬৬৩ জন চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। এ বিভাগ দুটিতে যথাক্রমে ১ হাজার ১১ ও ১ হাজার ১২০টি পদ রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দেশে নবম গ্রেডের ১৭ হাজার ৭টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক আছেন ১৩ হাজার ৯০২ জন। চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে ৩ হাজার ১০৫টি, যা মোট পদের ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া প্রথম শ্রেণীর সরকারি চিকিৎসকের পদ শুরু হয় নবম গ্রেড দিয়ে।

সরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রমুখিতার এ চিত্র উঠে এসেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক থিংক ট্যাংক স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ আয়োজিত আলোচনায়ও। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সুষম বণ্টন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ও ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত শেয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. ইকবাল আনোয়ার।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবসম্মত সমাধানের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭৮৩ পদের বিপরীতে প্রায় ৪ হাজার ৭৪৯ চিকিৎসক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) পদে ঢাকা বিভাগেই নিযুক্ত আছেন। দেশের জেলা শহরে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক সংকট মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ পদ খালি রয়েছে, যা সার্বিকভাবে সরকারি খাতে এ চিকিৎসক সংকট সৃষ্টি করছে। সমন্বিতভাবে এ থেকে সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবা মূলত শহরকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে চাহিদার বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফসহ জনস্বাস্থ্যকর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে। এ সংকটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, তদারকি ও সুশাসনের কার্যকরী কাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাব, সেবাদানকারীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব, প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের নাগরিক জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকা—বিশেষ করে চিকিৎসকদের সন্তানদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবস্থা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

স্বাস্থ্যনীতি সংলাপের সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. এমএ ফয়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করার মাধ্যমে সমাধানে আসতে হবে, তবেই স্বাস্থ্য খাতের এ সমস্যাগুলো মেটানো সম্ভব হবে। আমাদের মানবসম্পদ অপ্রতুল। তবে এখন আমরা প্রতিদিনের তথ্য পাচ্ছি। অতীতে সেই তথ্যগুলোও আমাদের হাতে ছিল না। ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এখন আমরা তা জানতে পারছি। আর এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পদায়নের চেষ্টা করছি।

সমাপনী বক্তব্যে ডা. এমএ ফয়েজ বলেন, আলোচনায় বাস্তবধর্মী সমাধানের যেসব প্রস্তাব এসেছে, তা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা হবে। আগামীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাস্তবমুখী সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এসব প্রস্তাব সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সমর্থিত, আইসিডিডিআর,বির ‘স্ট্রেনদেনিং হেলথ, অ্যাপ্লায়িং রিসার্চ এভিডেন্স (শেয়ার)’ প্রকল্পের উদ্যোগে স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। স্বাস্থ্য খাতে অর্জন ও জনগণের প্রত্যাশা, সবর্জনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা ও করণীয় এবং নগর স্বাস্থ্য ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক তিনটি স্বাস্থ্যনীতি সংলাপ এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার চতুর্থবারের মতো স্বাস্থ্যবিষয়ক সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সূত্রঃ বনিক বার্তা।