• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ওহে ছাত্রলীগ নেতা!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ১৪, ২০২৩, ১৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ওহে ছাত্রলীগ নেতা!

রাত তখন আড়াইটা। অফিস শেষ করে সহকর্মীদের সাথে সদর রোড থেকে একটু চা খেয়ে বাসায় ফিরছিলাম। ব্রোজমোহন কলেজ অতিক্রম করতেই সামনে দেখি প্রায় ২০/২৫টি মটর সাইকেল একসাথে আসছে। একটু সামনে যেতেই শুনি তাদের মুখে স্লোগান। অমুক ভাই ভয় নাই রাজপথ ছাড়িনায়। আমি মনে মনে চিন্তা করলাম রাত তো ১২টার উপরে বাজে,আজকে কি কোনো দলীয় দিবস আছে নাকি। পরে অনেক্ক্ষণ গাড়ি চালাই আর ভাবছি নাহ আজকে তো কোনো দিবস নেই।

 

এরপর আস্তে আস্তে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে পৌছালাম। ঢাকা-বরিশাল রুটের বিএমএফ কাউন্টারের পাশে চায়ের দোকানে আবারও এক কাপ চা খেতে দাড়ালাম। একটু পরেই আবারও দেখি ১০থেকে ১৫টা মটর সাইকেল একসাথে কাউন্টারের দিকে ঢুকছে আর স্লোগান দিচ্ছে। তবে তাদের স্লোগানে সেই অমুক ভাইয়ের নামের পরিবর্তে তমুক ভাইয়ের নাম। আমি তো অবাক!

 

পরে চা দোকানের ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, কিরে এতো লোকজন কিসের? ছোট ভাই উত্তর দিলো,ক্যান আপনি জানেন না। আজকে তো বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দিছে। আমি আবারও একটু ভাবতে শুরু করলাম,মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দিলো আর আমি জানলাম না। কতবড় একটা নিউজ মিস করলাম। একটু মন খারাপ করে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে ফেইসবুকে ঢুকেই স্ক্রল করে দেখতেছি যে,সেরকম কিছু পাই কিনা। হটাৎ একটার পর একটা পোস্ট সামনে আসতে শুরু করলো।

 

দেখলাম বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কলেজ শাখার কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদকদের ছবি দিয়ে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছে সবাই। আমিও কয়েকজনকে শুভকামনা জানালাম। হটাৎ করে দেখি একই ওয়ার্ডে দুইজন সভাপতি দাবিদার।তখন বিষয়টি একটু ভাবিয়ে তুললো। পরবর্তীতে আরও কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে দেখলাম বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের কমিটিতে একই অবস্থা। তখন বাধ্য হয়ে আমার ফেইসবুক টাইমলাইনে একটি পোস্ট দিলাম। “বরিশালে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার ছড়াছড়ি চলছে। কিন্তু….অনুমোদনের কাগজ কোথায়?” সেখানে অনেকেই যার স্থান থেকে তাদের মন্তব্য দিয়েছেন। এখন বিষয়টি হচ্ছে,এই যে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হলো। এর কাগজ কোথায়?

একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমাদের জানামতে ২০১১ সালের ৯জুলাই গঠন করা কমিটি ২০২১সালের মে মাসের ২৫ তারিখে বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখে নতুন করে আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়। সেটিও চলতি বছরের মে মাসের ১৫ তারিখে বিলুপ্ত করা হয়। তবে, আমরা যতটুকু জেনেছি বা আমাদেরকে জানানো হয়েছিলো সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৩থেকে ৪টি ওয়ার্ডের আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিলো ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর।

 

তারপর আর কোনো কমিটি দেয়ার কথা তারা আমাদের জানায়নি এবং আমরাও জানিনা। তাহলে এই কমিটি গুলো দিলো কারা? তাও আবার দুইটি গ্রুপের দুইটি আলাদা আলাদা সভাপতি-সম্পাদক৷ পরিশেষে আরেকটু কথা বলে যাই। যারা কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা আবার আমাকে ভুল বুঝবেন না। আচ্ছা আপনি বা আপনারা কি একটুও ভেবে দেখেছেন! আপনি যে ওয়ার্ডের সভাপতি বা সম্পাদক হয়েছেন,আপনার কতটুকু যোগ্যতা রয়েছে ওয়ার্ডের তরুণ যুবসমাজকে প্রতিনিধিত্ব করার।

 

যারা এই কমিটিগুলো দিয়েছে তারাও জানে যে,এই কমিটির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। না হলে ওয়ার্ডের আরও কঠোর পরিশ্রমী এবং যারা এই কমিটি দিয়েছেন তাদের আস্থাভাজনকে রেখে আপনাকে/আপনাদের এতোবড় একটা স্থানে বসাবে সেইটা ভাবলেন কিভাবে। কথাটা সকলের ক্ষেত্রে না। কারণ কিছু কিছু ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী কর্মীদেরও পদ দেয়া হয়েছে। এখন আপনিই ভাবুন,আসলেই কি আপনি একটি ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদক হওয়ার যোগ্য? প্রশ্নটা আপনার/আপনাদের কাছে রইলো।

লেখক-
এইচ আর হীরা
গণমাধ্যমকর্মী