• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির দাপট! অসহায় ডাক্তার ও রোগীরা?

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০২৬, ১৯:৩৫ অপরাহ্ণ
উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির দাপট! অসহায় ডাক্তার ও রোগীরা?

উজিরপুর প্রতিনিধি॥ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি লিংকনের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, চিকিৎসকদের কক্ষে অবাধ যাতায়াত এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গত ৮ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাজমুস সাকিবের কার্যালয়ে যান কয়েকজন সাংবাদিক। সে সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে তার সামনের চেয়ারে বসে ছিলেন একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি লিংকন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহ চলাকালে লিংকন বারবার কথোপকথনে হস্তক্ষেপ করেন এবং একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকরা পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী বলে দাবি করেন।

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তাদের অভিযোগ, লিংকন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসকের কক্ষে অবাধে প্রবেশ করেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এছাড়া রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশনের) ছবি তোলার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজেও তার দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টি দেখা গেছে।

কিছু সূত্রের ভাষ্য, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লেখানোর জন্য তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, রোগী দেখার সময় চিকিৎসকদের কক্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও চিকিৎসা-নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কক্ষ কিংবা চিকিৎসকদের চেম্বারে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি জনস্বার্থের পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে লিংকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যা বলেছি, ঠিকই বলেছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাজমুস সাকিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
(চলবে)