আমতলি প্রতিনিধি : আসন্ন আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় আশ্রয় দেয়ার অপরাধে ঘটনাস্থলের একটি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামে শনিবার দুপুরে। আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।
জানাগেছে, আসন্ন আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন মৃধার ছোট ভাই মোঃ জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধার নেতৃত্বে ঘোড়া মার্কার সমর্থনে কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে পূজাখোলা গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে যায়।
এ সময় আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর শতাধিক কর্মী- সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর পোস্টার ছিড়ে ফেলার অযুহাতে তাদের ধাওয়া করে। ঘোড়া মার্কার কর্মী-সমর্থকরা দৌড়ে পার্শ্ববর্তী দেলোয়ার হোসেন শাহ্ বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। এ সময় দেলোয়ার শাহ্ বাড়ীর সামনের দরজা ভেঙ্গে ও পিছনের বেড়ার টিন খুলে গৃহে প্রবেশ করে নৌকা মার্কার কর্মী হাবিব গাজী, জসিম, নুরজামাল, কামাল হাওলাদার, দুলাল হাওলাদার, শাহীন, ফরিদ, রিপন খান, আজাদ, সুজনসহ প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র রামদা-ছেনা, লাঠি- সোটা নিয়ে হামলা করে ঘোড়া মার্কার প্রার্থীর ছোট ভাই খোকন মৃধাকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
এ সময় তাকে রক্ষার্থে খালেক বেগ, সালাম মাতুব্বর, সাইফুল ইসলাম, আলমগীর প্যাদা, করিমুল হাসান, আলাউদ্দিন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে করিমুল হাসানের হাত ও আলমগীর প্যাদার পা ভেঙ্গে গেছে। ঘোড়া মার্কার সমর্থক আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন রবিউল মেলকার, জসিম মেলকার, শাহজালাল ও আরিফ হাওলাদার।
অপরদিকে নৌকা মার্কার সমর্থকরা ঘোড়া মার্কার সমর্থকদের বাড়ীতে আশ্রয় দেয়ার অপরাধে দেলোয়ার শাহ্ বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।
এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র, থালাবাটি ও স্যুটকেস ভেঙ্গে ১টি সোনার চেইন আংটি, ১টি স্যামসং মোবাইল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাঁধা দিলে দেলোয়ার শাহ্ কন্যা আট মাসের অন্তঃস্বত্তা মোসাঃ সোনিয়া বেগম কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে তার হাতে থাকা মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়।
বাড়ীর মালিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহ্ বলেন, দুপুর ১২টার দিকে ঘোড়া মার্কার প্রার্থী মোতাহার উদ্দিন মৃধার ছোট ভাই খোকন মৃধা ও তার লোকজন নিয়ে দৌড়ে আমার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। এ সময় নৌকা মার্কার প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধার লোকজন আমার বাড়ীতে এসে দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে তাদের মারধর করে আমার ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙ্গে লুটপাট করে।
দেলোয়ার শাহ্ কন্যা আট মাসের অন্তঃস্বত্তা মোসাঃ সোনিয়া বেগম বলেন, নৌকা সমর্থকরা আমাদের গৃহে প্রবেশ করে ঘরের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র, থালাবাটি ভেঙ্গে ফেলে। স্যুটকেসে থাকা ১টি সোনার চেইন ও ১টি আংটি, ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমার ও আমার ভাই আসাদুলের ২টি স্যামসং মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমি এতে বাঁধা দিলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
আহত জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা বলেন, আমি আমার বড় ভাই ঘোড়া মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাহার উদ্দিন মৃধার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে আজ দুপুরে পূজাখোলা গ্রামে যাই। এ সময় নৌকা মার্কা প্রার্থীর শতাধিক সমর্থকরা আমাদের কোন কারন ছাড়াই লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। আমরা দৌড়ে পার্শ্ববর্তী দেলোয়ার শাহ্র বাড়ীতে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে আমাকেসহ ১০জন কর্মীকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
অপরদিকে এ ঘটনায় নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধার ৬ জন সমর্থক বাবুল, সুলতান, বজলু গাজী, জসিম উদ্দিন, নাজমুল ও আজাদ নামে ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে প্রার্থী দাবী করেন। তিনি আরও বলেন, আমার ২টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে ঘোড়া মার্কার সমর্থকরা।
ঘোড়া মার্কার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, আমার ছোট ভাই খোকন মৃধার নেতৃত্বে আমার সমর্থনে নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর জন্য পূজাখোলা গ্রামে গেলে নৌকা মার্কার প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধার নেতৃত্বে শতাধিক নৌকার সন্ত্রাসীরা হামলা করে আমার ভাইসহ আমার ১০ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় আমার ভাই ও তার সাথে কর্মীদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে দেলোয়ার হোসেন শাহ্ বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন চিৎিসা নিয়েছেন। এরমধ্যে খোকন মৃধা, কারিমুল হাসান, আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিন হাওলাদারকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন স্পটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। জড়িত থাকার সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।