এম. ফোরকান ॥ সম্প্রতি বরিশাল জেলায় ১১ হাজার ৫২৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে মোট ৪১ হাজার ৯০ কেজি বিভিন্ন রবি শ্যস্যের বীজ, ৫০০ গ্রাম বিটি বেগুন ও ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ কেজি বিভিন্ন সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। যার অধিকাংশই কৃষক নামধারী অকৃষকের ভাগ্যে জুটেছে। এদের মধ্যে চাকুরি জীবী, স্বচ্ছল, দলীয় নেতা-কর্মীসহ কার্ডধারী নামমাত্র কৃষক রয়েছে। যারা কখনোই কৃষি কাজ করেনা বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যপারে কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আমরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে হেরে যাই। তালিকা তৈরির পর চেয়ারম্যানদের কাছে দিতে হয়। তারা কিছু নাম কেটে নতুন নাম যোগ করেন। তথ্যমতে, ১ বিঘা জমির মালিক তবে দরিদ্র ক্ষুদ্র-প্রান্তিক কৃষকরা এ প্রণোদনা পাবে। রবি শস্যের আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র সত্যিকারের কৃষকদের নতুন নতুন উন্নত জাত চাষে আগ্রহ সৃষ্টিই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু অপাত্রে প্রনোদনার উপকরন যাওয়ায় বীজগুলো দিয়ে হচ্ছে ভোজন বিলাস আর সার বিক্রি হয়ে যাচ্ছে খুচরা দোকানে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যার্থ হওয়ার পথে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হরিদাস শিকারী জানান, প্রনোদনার উপকরণ সঠিকভাবে ব্যাবহাহ্নত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারী করছে। অপব্যবহারের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, একজন কৃষক ৫ কেজি উফশী জাতের ধানের বীজের সাথে পেয়েছেন ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি, খেসারি ডালের জন্য নির্ধারিত একজন কৃষক পেয়েছেন ৮ কেজি উন্নত জাতের বীজসহ ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার, মুগ ডালের ক্ষেত্রে জনপ্রতি বরাদ্দ ৫ কেজি বীজ সাথে ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। একইভাবে, তালিকাভুক্ত একজন সরিষা চাষির জন্য বরাদ্দ ছিলো ১ কেজি হাইব্রিড জাতের বীজসহ ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার, প্রতি ফেলন চাষির জন্য বরাদ্দ ছিলো ৭ কেজি বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি আর ৫ কেজি এমওপি, প্রতি ভূট্টা চাষির বরাদ্দ ২ কেজি বীজসহ ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি এবং হাইব্রিড জাতের বিটি বেগুন বীজের বরাদ্দ জনপ্রতি ২০ গ্রাম বীজসহ ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার। সূত্র জানায়, জেলায় মোট প্রণোদনা প্রাপ্ত ১১ হাজার ৫২৫ জন চাষির মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ১১৯৬ জন, বাকেরগঞ্জে ১৮৪০ জন, বানারীপাড়ায় ৯৫৬ জন। একইভাবে, উজিরপুরে ১ হাজার, হিজলায় ৯৫০, মুলাদীতে ১০৭৬, গৌড়নদীতে ৮৯৭, মেহেন্দগঞ্জে ১৪২০, আগৈলঝাড়ায় ৮৭০, বাবুগঞ্জে ৯৭০ এবং মেট্টোপলিটন কৃষি এলাকায় প্রণোদনা প্রাপ্ত কৃষকের সংখ্যা ৩৫০ জন।