বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশালে অপারেশন থিয়েটারে ব্যথায় কান্না করায় আট বছরের শিশুকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে ওটি বয়ের বিরুদ্ধে। এতে শিশুর চোখে রক্তজমাট বেঁধেছে।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অর্থোপেডিক অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহায়ক জিএম নাজমুল হাসানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ঈদ বোনাসসহ বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নির্মমতার শিকার শিশু মো. লিমন (৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের পুকুরজানা গ্রামের লিটন সিকদারের ছেলে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিশুর চাচা মো. আনছার সিকদার জানান, আমার ভাতিজা স্থানীয় পুকুরজানা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার খেলা করতে গিয়ে শাবলের আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর কোনো চিকিৎসা সেবা পাননি তারা। সারা দিনে কোনো চিকিৎসক-নার্সের খবর ছিল না। রাত ৯টার দিকে নার্সরা এসে বলে, লিমনকে ওটিতে নিয়ে যেতে।
শিশুর চাচা বলেন, ঘটনার সময় আমি ওটির মধ্যে ছিলাম। নাজমুল হাসান নামের ওই অফিস সহায়ক লিমনের হাত অবশ করতে ইনজেকশন পুশ করতে ছিল।
এসময় ব্যথায় চিৎকার এবং নড়াচড়া করলে অফিস সহায়কের হাত থেকে সিরিঞ্জটি পড়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাজমুল কষে থাপ্পড় বাসিয়ে দেন লিমনের ডান গালে।
এতে গালে তার আঙুলের ছাপ এবং চোখে রক্তজমাট বেঁধে যায়। কিন্তু চিকিৎসার স্বার্থে ওটির মধ্যে তখন কোনো প্রতিবাদ করিনি।
আনছার সিকদার বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ পেলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরের দিকে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক জিএম নাজমুল হাসানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শিশু রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত অফিস সহায়ককে তাৎক্ষণিক চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ঈদ বোনাসসহ সব ধরনের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।