• ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ওসির ছত্রছায়ায় চলে মাদক ব্যবসা

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, ১৬:৩৪ অপরাহ্ণ
ওসির ছত্রছায়ায় চলে মাদক ব্যবসা

রিপোর্ট দেশ জনপদ ॥ রাজশাহীতে গত রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা করানোর অভিযোগ উঠেছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠনেরও দাবি জানান। গতকাল রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার মেয়র এবং কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার একটি সূত্র জানিয়েছে, সভায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সী মাদকের ‘গডফাদার’ দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছেন আর সাধারণ মানুষ বা যাঁরা মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন এমন লোকজনের বাড়িতে গভীর রাতে তল্লাশির নামে সাত-আটজন দারোগা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কেউ দরজা না খুললে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকছে। তল্লাশির নামে টেবিলের ড্রয়ারে দুই পুরিয়া হেরোইন রেখে তাঁদের ধরে নিয়ে টাকা আদায় করছে। এভাবে একদিকে ওসি মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে অবাধে ব্যবসা করাচ্ছেন, অপরদিকে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মেয়রের দাবি অনুযায়ী প্রতি রাতে গোদাগাড়ী থানার ওসি মাদক থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি শুধু অভিযোগই করেননি। তিনি বলেছেন, তাঁর কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। কমিটিই এ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে বের করবে। তিনি বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নির্দিষ্ট করে উদাহরণ দিয়ে বলেছেন। গত মে মাসে ‘মাদক সম্রাট’ আখ্যা দিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল রানাকে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ ধরেছিল। পরে তাঁকে মাদকের কোনো মামলায় চালান দেওয়া হয়নি। তাঁকে নাশকতার একটি মামলায় চালান দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরাতেই গোদাগাড়ীতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছে। মান-সম্মান বাঁচাতে ২ লাখ-৪ লাখ টাকার হিসাব তাঁরা করছেন না। পুলিশ যা দাবি করছে, তা-ই দিচ্ছেন। অপরদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে ব্যবসা করছে। জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, আসলে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে মেয়রের বিরোধ চলছে। পুলিশকে সাধারণত সাংসদের পক্ষেই থাকতে হয়। এই নিয়ে মেয়র ক্ষুব্ধ। তাঁর জমি দখলের একটা ঘটনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। এটা তাঁর ভালো লাগেনি। মাদক সম্রাট ঘোষণা দিয়ে সোহেল রানাকে আটক করে নাশকতার মামলায় চালান দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, সোহেল আসলেই ‘মাদক সম্রাট’। কিন্তু তাঁর কাছে মাদক পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে অন্য মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ওই সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন ছিলেন। তিনি সভা থেকে এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সভায় বলা হয়েছে, এভাবে না বলে নির্দিষ্ট করে অভিযোগ করলে পুলিশ তা নিয়ে কাজ করতে পারে।