• ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সাহসী কন্যা মনিকা নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে এখন ত্রি বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সাহসী কন্যা মনিকা নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে এখন ত্রি বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি

mde

জাকির হোসেন, আমতলী ॥ পুলিশ এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় স্কুলের দুই বান্ধীকে সাথে নিয়ে আমতলী মফিজ উদ্দন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা (১১) নিজের বাল্য বিয়ে নিজেই বন্ধ করে সাহসী কন্যা খেতাব প্রাপ্ত মনিকা এবার খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির ২ দিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রন পেয়েছেন।

মনিকা আমতলী মফিজ উদ্দ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এবং আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিক্সা চালক জুয়েলের মেয়ে। গত ২৩ আগস্ট তার মা শাহনাজ বেগম লাইলী আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পৌরসভার আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অপ্রাপ্ত বয়স্ক শামীম (১৫) এর সাথে মেয়ের বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। এ বিয়েতে মনিকার বাবা রাজী ছিল না বলে জানায় মনিকা। নিজের বিয়ের এ আয়োজন দেখে মনিকা চমকে যান এবং তার এ বিয়ে বন্ধের জন্য তার বন্ধবী বাসুগী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কনিকার সহযোগিতায় পুলিশের এসআই নাসরিনের সহযোগিতায় এ বিয়ে বন্ধ করেন।

এ বিষয়ে মনিকাকে নিয়ে ‘ নিজের বিয়ে ঠেকাল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী’ শিরোনামে ২৫ আগস্ট জাতীয় দৈনিক সমকালে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর প্রশাসন সুশীল সমাজসহ দেশব্যাপী সকলের প্রশংসায় ভাসতে থাকেন মনিকা। মনিকার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন এবং বেসরকারী সংগঠন এনএসএস তাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেন এবং লেখাপরার খরচ দেওয়ারও আশ্বাস দেন।

আগামী ২০-২১ সেপ্টম্বর ২দিন ব্যাপী ঢাকার শিশু এ্যাকাডেমী মিলনায়তনে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মনিকা আমন্ত্রণ পেয়েছে। ইতোমধ্যে তার হাতে আমন্ত্রন পত্র পৌছে দেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রণ পত্র পেীছে দেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরগুনা জেলা খেলা ঘরের সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল। মনিকা বলেন, বিয়া কি মুই কিছুই বুঝি না এই অবস্থায় মা মোরে বিয়া দেওয়ার লইগ্যা পোলা ঠিক করছে এই কথা হুইন্যা মুই পুলিশের সাহাজ্য নিয়া বিয়া বন্ধ করি। এই কাজের কাজের লইগ্যা মোরে এহন ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিছে মুই ব্যামালা খুশি। আমি চাই এরহম ভাবে যেন আর কারো বিয়া না হয়।