বিডি ক্রাইম ডেস্ক ॥
বরিশাল শহরের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন কামাল হোসেন কুতুবী নামে এক রোগী। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। হাত অপরেশনের নামে প্রতিষ্ঠান মালিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেন তাঁর কাছে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিলেও দেওয়া হয়নি কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা। বরং দু’দফা অপচিকিৎসা দেওয়ায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজান গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেনের বাম হাতটি এখন হারানোর উপক্রম হয়েছে।
সম্প্রতি বরিশাল ও রাজধানীর একাধিক চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হলে এমন আশঙ্কার বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে দ্রুত অপরেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অপরেশনের পরেও কামাল হোসেনের হাতটি স্বাভাবিক হবে কী না তা নিয়েও কোন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না চিকিৎসকেরা। তাছাড়া পেশায় মসজিদের ইমাম কামালের পক্ষে এখন চিকিৎসায় বিপুল অর্থও বহন করাও অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। সবকিছু শোনার পরে ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে তিনি যে বরিশালের ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন সেই বিষয়টিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎকেরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অপচিকিৎসার শিকার গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল তাঁরাকুপি মসজিদের ইমাম কামাল হোসেন কুতুবী জানান, গত ১২ জুন দুপুরে স্ত্রী নিয়ে বরিশাল শহর থেকে রওনা দিয়ে যাওয়ার পথে বাবুগঞ্জের রহমতপুর এলাকায় বরিশাল ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত হন। ওই সময় তাকে স্থানীয় মাহিন্দ্রা চালকেরা উদ্ধার করে চিকিৎসা দিতে বরিশাল শহরের বান্দরোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।
৫’শ টাকা ভিজিট দিয়ে হাসপাতালটির মালিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনকে দেখানোর পরে তিনি প্রথমে হাতের একটি এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। এক্স-রে রিপোর্ট দেখে এই চিকিৎসক তাকে অপারেশনের কথা বলে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু দিনভর তিনি হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরালেও কোন ওষুধ দেওয়া হয়নি। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ওটিতে নিয়ে ব্যথাস্থানে ৩ টি ও কোমরে একটি লোকাল ইনজেকশন দিয়ে আঙ্গুল টানাটানি করে ভাঙা হাতটি ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।
পরেদিন অর্থাৎ ১৩ জুন সকালে ৯ হাজার ৫’শ টাকা বিল এসেছে জানিয়ে কামাল হোসেনকে বাসায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ১০ দিন পরে ফের দেখা করতে বলা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে তিনি বেঁধে দেওয়া ১০ দিন মারাত্মক যন্ত্রণায় ভোগেন।
পরবর্তীতে নির্ধারিত ২২ জুন ভুক্তভোগী কামাল আবার রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন তাকে ফের একটি এক্স-রে করতে বলেন। রিপোর্ট দেখে তিনি সব ওকে বলে মন্তব্য করে হাতের ব্যান্ডেজ খুলে নতুন করে এক মাসের জন্য প্লাস্টার করার পরামর্শ দেন। এবং সাথে সাথে হাতটিতে প্লাস্টার করে দিয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বিল করেন।
এই চিকিৎসা নিয়ে কামাল হোসেন বাসায় যাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় হাতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। একপার্যায়ে যন্ত্রণা সইতে না পেরে তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ খুরশীদ আলমের স্মরণাপন্ন হন। এসময় এই চিকিৎসক নতুন করে একটি এক্স-রে করে দেখতে পারেন কামাল হোসেন দু’দফাই অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ফেরদৌস রায়হান ও রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের ডাক্তার খন্দকার এহতেশাম আহমদ জুয়েলের স্মরণাপন্ন হলে তারাও অপচিকিৎসার শিকার বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্হিবিভাগে সেবা নিতে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরাও সব শুনে অপচিকিৎসার কথা অবহিত করেন। পাশাপাশি সকল চিকিৎসকেরাই হাতের অবস্থা ভাল নয় বলে ধারনা দিয়ে তাকে দ্রæত অপরেশনের পরামর্শ দেন।
কামাল হোসেন হোসেন জানান, চিকিৎসকদের এই পরামর্শের পরে তিনি অপরেশনের জন্য রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হতে এক সপ্তাহ ঘুরেছেন। কিন্তু কোথায় বেড পাননি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ না থাকায় ফিরে এসেছেন।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের দাবি- রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের মালিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনের অপচিকিৎসার কারণে তিনি হাতটি হারাতে বসেছেন। এই ঘটনায় তিনি প্রয়োজেনে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে ক্ষতিপূরণও চাইবেন।
তবে অপচিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতাল মালিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিন অনেক রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অনেক সময় ২/১ রোগীর ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হয়ে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের সেই ক্ষতিও পুষিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এবার কামাল হোসেনের বিষয়টি নিয়ে পুরো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তাছাড়া হাসপাতাল মালিক চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার বলছেন- একটি মহলবিশেষ বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।