• ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মামলা নেয়নি বন্দর থানা পুলিশ

বরিশালে গাঁজা বাবুলের তান্ডব ; গর্ভবতী মহিলাকে লাথী মেরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ !

admin
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০১৯, ১৮:৫৩ অপরাহ্ণ
বরিশালে গাঁজা বাবুলের তান্ডব ; গর্ভবতী মহিলাকে লাথী মেরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ !

মোঃ রিয়াজ হোসেন ॥ বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের মৌলভীরহাট এলাকায় এক গর্ভবতী মহিলাকে পেটে লাথী মেরে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্র বলছে মৌলভীরহাট এলাকার সারুখালী গ্রামের মোঃ নুর আলম হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ শিল্পি বেগম (২৫) এর সাথে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পেয়ারা গাছকে কেন্দ্র করে নুর আলমের ভগ্নীপতি মোঃ বাবুল ওরফে (গাজা বাবুল) এর সাথে শিল্পি বেগমের পেয়ারা গাছ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। তখন গাজা বাবুল শিল্পি বেগমের গায়ে এলোপাতারি লাথি মারতে থাকে, এক পর্যায় শিল্পি বেগম ব্যাথা ও যন্ত্রনায় মাটিতে গড়াগড়ি করে। জানাগেছে শিল্পি বেগমের স্বামী মোঃ নুর আলমের সাথে বাবুলের দীর্ঘদিন যাবৎ জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলতেছে। তারই জের ধরে শিল্পি বেগমকে বেধম মারধর করে বাবুল ওরফে (গাজা বাবুল)।

আহত শিল্পি বেগমের স্বামী মোঃ নুর আলম বলেন, আমার দুলাভাই প্রায় ১০-১২ বছর ধরে আমাদের বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে থাকছে। তাদের ঘর তোলার জন্য আমার বাবা পৌনে এক শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন। সেখানেই ঘর তুলে থাকছেন আমার ভগ্নীপতি। নুর আলম আরও বলেন, আমার ঘরের সম্মুখে একটি পেয়ারা গাছ আছে সেই পেয়ারা গাছ থেকে আমার ভাগ্নে পেয়ারা পারতে যায় তখন আমার স্ত্রী বাধা দিয়েছে বলেই, আমার অসুস্থ স্ত্রীকে ঘরের ভিতর ঢুকে এলোপাতারি লাথী ও আছার মেরেছেন বাবুল ওরফে গাজা বাবুল।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে বলে আমি বন্দর থানায় গত ০৫/০৭/২০১৯ ইং রোজ শুক্রুবার একটি অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দেওয়ার পর বন্দর থানার পুলিশ ঘটনাস্হানে গিয়ে বাবুলকে আটক না করে চলে আসে। থানার পুলিশ ব্যাবস্হা না নিয়ে উল্টো আমাকে বাবুলের সাথে আপোশ মিমাংশা করতে বলে। এদিকে শিল্পি বেগম বলেন, আমি যাতে মামলা করতে না পারি সেই জন্য আমাকে আমার বাপের বাড়িতে জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছেন সবাই। আমি থানায় গেলাম সাহায্য পাওয়ার আশায়, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। আমি বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে সঠিক বিচার দাবি করছি। আমি অসুস্থ অবস্থায় থানায় গিয়েছি, কিন্তু আমার অভিযোগ পেয়েও মামলা নেয়নী থানার পুলিশ।

এদিকে এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, বাবুল এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করে। এমনকি এই বাবুল দীর্ঘদিন যাবৎ গাজা বিক্রি করে এলাকায় নৈরাজ্য তৈরি করেছে।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে ওই এলাকার আরও কয়েকজন বলেন, বাবুল আমাদের এলাকার জামাই, তার বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগীতে। সে প্রায় ১০-১২ বছর যাবৎ তার স্বশুর বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে থাকতেছেন। কিন্তু তার জ্বালায় আমরা এলাকাবাসি সমাজে বসবাস করতে ভয় পাই। সে গাজা বিক্রি করে মৌলভীরহাট এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজকে ধ্বংশের পথে ঠেলে দিয়েছেন। মৌলভীরহাট বাজারের অধিকাংশ লোক বাবুলের বিরুদ্বে কথা বলেছেন।

এদিকে নুর আলমের মা ও শিল্পি বেগমের শ্বাশুরী, মারধরের ব্যাপারটি স্বীকার করে বলেন আমার ছেলের বউকে বাবুল বেধম মার মেরেছে, আমিও এর সঠিক বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে বাবুল ওরফে (গাজা বাবুল) সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, আপনারা সংবাদ প্রকাশ করে যা করতে পারেন করেন, এতে আমার কিছু আসে যায়না।

এ ব্যাপারে বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা কামাল হায়দার বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যাবস্থা নেব।