• ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদের পোষাক বাজার

ক্রেতার পকেট কাটার পরিপাটি আয়োজন

admin
প্রকাশিত মে ১৯, ২০১৯, ১৬:৫২ অপরাহ্ণ

এ.এ.এম হৃদয় ॥ নগরীতে বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি থাকার পরেও পোষাক বাজারে মূল্য প্রতারনা থামছেনা। অথচ চকবাজার, গীর্জামহল্লাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে আমরা ১৫ থেকে ২৫ % পর্যন্ত লভ্যাংশ রেখে মূল্য নির্ধারন করি। কিন্তু সরেজমিনে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এনিয়ে গীর্জা মহল্লা ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মজিবর রহমান বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর পোষাকের শো-রুম গুলোতে ক্রেতা ভীড় কম। কারন মানুষ এখন অনলাইনে অর্ডার করে বাসা বাড়িতে বসেই পছন্দের পণ্য হাতে পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, শো-রুমগুলোর চেয়ে মোটামুটি কম দামেই পাচ্ছে। তাহলে আপনারা কেন কম দামে দিতে পারছেন না? এসময় তিনি আরো বলেন, আমরাও কম দামে দিচ্ছি। তবে গীর্জামহল্লায় জেমিনিস, ফ্যাশন প্লাস, মাদার লাভ, মিথুন গার্মেন্টস, বৈশাখী, ফ্যাশন এশিয়া, ভূঁইয়া ক্লোথ, লাকী গার্মেন্টস, পিটার ইংল্যান্ড, শিকদার ষ্টাইল, নেক্টট প্লাস, উৎসব, জুয়েল পোষাকসহ চকবাজারে অধিকাংশ পোষাকের শো-রুমগুলোতে ১২শ থেকে ২৫ শ টাকা পর্যন্ত ক্রয় মূল্যের পোষাকের দাম হাকানো হয়েছে ৪৭শ থেকে ৫৩শ টাকা পর্যন্ত। আবার ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রয় মূল্যের পোষাকের দাম হাকানো হয় সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে পোষাকের শোরুমগুলো ক্রয়মূল্য থেকে ৫০%-৭০% লভ্যাংশ হাতিয়ে নেয়। এযেন পকেট কাটার পরিপাটি আয়োজন। এ ব্যাপারে বেবিলনের প্রোপ্রাইটর বলেন, আমরা জিরো সাইজের পোষাকে ২৫%, মাঝারী আকারে পোশাকে ৩৫%, বড় সাইজের পোশাকে ৫০% লভ্যাংশে বিক্রি করি। তবে এ বছর ক্রেতা কম থাকায় তেমন বিকিকিনি নেই। বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো:শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, আমরা আজকেও এনিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে মিটিং করেছি। সেখানে বলা হয়েছে সঠিক মুল্য তালিকা তৈরী করা এবং কোনভাবেই ১৫% থেকে ২৫% এর বেশি অতিরিক্ত মূল্য হাকানো যাবেনা। আর শীঘ্রই পোশাক বাজারে অভিযান পরিচালিত হবে। অপরদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, আপনারা জানেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি পোশাক বাজারেও শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে। যাতে মুনাফার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতানো বন্ধ হয়। সুত্রে জানা গেছে, গত ঈদে গীর্জা মহল্লার একটি দোকানে একটি গেঞ্জির মুল্য ১২ হাজার টাকা দাম হাকানো হয়। এরপর ভুক্তভুগী ক্রেতা এ দাম চ্যালেঞ্জ করে শো রুমের মালিকের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এ ঘটানার কয়েকদিন পর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে ১২ হাজার টাকা হাকানো মুল্যের সঠিক কোন ক্রয় রশিদ দেখাতে সক্ষম হয়নি। তখন উক্ত শোরুমকে জরিমানা করা হয়। সরেজমিনসুত্রে, নগরীর নথুল্লাবাদ, রুপাতলী, সাগরদি, বটতলা, সদররোড, বিএম কলেজসহ কাটপট্টি, সিটি মার্কেট মহসিন মার্কেট, সাজরিনি মার্কেট, ভেনাস মার্কেট, পদ্মাবতি, সোবহান কমক্সে, ফজলূল হক এভেনিউ, পুলিশ লাইন্স সড়কসহ এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ব্রান্ডের পোষাকের রুম রয়েছে। বিভিন্ন উৎসবগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম থাকে। বরিশালের উপজেলাগুলো থেকে পাইকারী ও খুচরা ক্রেতাগণ এসকল মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসে। এসুযোগে শো-রুম মালিকরা পোষাকের গায়ে মনগড়া মূল্যের ইষ্টিকার লাগিয়ে ক্রেতাদের পকেট কেটে রাখার মতো দামে বিক্রি করে। এনিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে প্রায় সারা বছরই বাক-বিতন্ডা লেগেই থাকে।