• ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আমতলীতে বিয়ের দাবী নিয়ে বাড়ীতে আসলে গৃহবধুকে বেধরক মারধর

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১৮:৪৯ অপরাহ্ণ
আমতলীতে বিয়ের দাবী নিয়ে বাড়ীতে আসলে গৃহবধুকে বেধরক মারধর

বিডি ক্রাইম ডেস্ক ॥ বিয়ের নামে প্রতারনা করে রুবেল প্যাদা হাতিয়ে নিলো দুই সন্তানের জননী নাসিমা বেগমের কাছ থেকে ৫ লক্ষাধীক টাকা। বিয়ের দাবী নিয়ে কথিত স্বামীর বাড়ীতে আসলে ওই গৃহবধুকে বেধরক মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায়।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ২০০৪ সালে নাসিমা বেগমের সাথে এক ইটালী প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয়। নাসিমার ঘরে দুইটি সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে ওই প্রবাসী ইটালী চলে যায়। ওই সুবাধে তার চাচাতো ভাই রুবেল প্যাদা বিভিন্নভাবে ওই গৃহবধুকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এক পর্যায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছরে একাধিক বার ধর্ষণ করে রুবেল প্যাদা এমন অভিযোগ গৃহবধু নাসিমার। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে নাসিমাকে ইটালী প্রবাসী তালাক দেয়। নিরুপায় হয়ে গৃহবধু নাসিমা ঢাকার একটি সোয়েটর ফ্যাক্টরীতে কাজ নেয়। ওইখানে গিয়ে রুবেল পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ বছর ২৩ জুন এফিডেভিট মাধ্যমে রুবেল নাসিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অযুহাতে নাসিমাকে টাকার জন্য নির্যাতন করে আসছে রুবেল। নির্যাতন সইতে না পেরে নাসিমা রুবেলকে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গত বুধবার রুবেল স্ত্রী নাসিমার ঘরে থাকা তিন ভরি স্বর্ন ও নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে আসে এবং মুঠোফোনে বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। সোমবার বিকেলে নাসিমা বিয়ের দাবী নিয়ে রুবেলের বাড়ী আসেন। আসা মাত্রই রুবেল প্যাদা তার বাবা মন্নান প্যাদা,শামিম হাওলাদার ও শাহিন হাওলাদারসহ ৫ জনে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করে। এতে নাসিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা নাসিমাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত নাসিমা আক্তার বলেন, রুবেল প্যাদা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ওর জন্য আমার পূর্বেও স্বামী দুটি বাচ্চা রেখে তালাক দিয়েছে। এখন বিয়ের নামে প্রতারনা করে আমার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষা টাকা ও তিন ভরি স্বণাংলকার নিয়ে পালিয়ে এসেছে। এখন বিয়ে অস্বীকার করছে। তিনি আরো বলেন, বিয়ের দাবী নিয়ে রুবেলের বাড়ীতে আসলে আমাকে রুবেল, তার বাবা মান্নান প্যাদা, মা মমতাজ বেগম, মামাতো ভাই শামীম হাওলাদার ও মামা শ্বশুর শাহীন হাওলাদারসহ ৪/৫ জনে বেধরক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ হাজরা বলেন, নাসিমার উড়-, বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

এ বিষয়ে রুবেল প্যাদার মুঠোফোনে (০১৯০৮০০০২৭৬) বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।