• ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সচ্ছলরা পোয়াবারো অসচ্ছলরা রসাতলে

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০, ২০১৮, ১৮:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক \ অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে সামর্থবানদের উপবৃত্তি প্রদানে হাতানো হয়েছে প্রায় দুলাখ টাকা। ফের লুটপাটে সক্রিয় বাশার ও শ্যামল সিন্ডিকেট। দুর্ণীতির আতুড় ঘর খ্যাত বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে এ চালচিত্র দেখা গেছে। এনিয়ে অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষাকে আরো বেগবান করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এইচএসসি পর্যায়ে উপবৃত্তি চালু করা হয়েছে। এতে প্রায় ষাট শতাংশ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হবে। আর এ সুযোগটি বাগিয়ে নিতে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক বাশার ও শ্যামল মিলে উপবৃত্তির ফরম দিয়ে একশত টাকা করে আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ চক্রটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজে উপবৃত্তির ফরম সরবরাহের সময় প্রতিটি ফরমে একশ টাকা হাতিয়ে নেয়। কলেজটিতে চলতি শিক্ষা বর্ষে এইচএসসিতে প্রায় ১৩শ ৫০জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এইচএসসিতে কেন এ মোটা অংকের টাকা হাতানো হলো এর কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি কলেজটির কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে। এছাড়াও এইচএসসি, অনার্স ভর্তি, ফরম ফিলাপ, এবং উপবৃত্তির মৌসুম গুলোতে বিপুল অংকের অর্থ হাতানোর সিন্ডিকেটের মূলে রয়েছে কলেজটির সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক বাহার, বাশার ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক শ্যামল। শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদামতো টাকা দিতে রাজী না হলে সোজা-সাপটাভাবেই কৌশলে হুমকি দেয়া হয় তোমাদের ইনকোর্স পরীক্ষায় মার্কস দেবোনা বলে। শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার মধ্য দিয়ে উপরি বাগানোর এই রমরমা বাণিজ্যে আইসিটি ক্লাস যোগ করেছে আরেক মাত্রার। শুধু তাই নয় অনার্স ভর্তির সময়ও ছাত্রীদের থেকে আইসিটির ফি বাবদ দুশ টাকা নেয়া হয়েছে স্ব-স্ব বিভাগের মাধ্যমে। যেটি সম্পূর্ণ হাতে হাতে জমা, কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই। আবার একই শিক্ষার্থীদের থেকে বিভিন্ন বর্ষের ফরম ফিলাপের সময়ও দুশত টাকা করে হাতানো হয় একই প্রক্রিয়ায়। চাহিদামতো এ টাকা দিতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়া হয় ‘যা বলছি তাই করো, বেশি কথা বললে ফাইনালে ইনকোর্স পরীক্ষায় মার্কস কমিয়ে ফেল করিয়ে দেবো।’ ইনকোর্স পরীক্ষাকে হাতিয়ার করে ছাত্রীদের জিম্মিদশায় রেখে উপরি বাগানোর এ দুষ্ট চক্রের মুলে রয়েছে সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক বাহারুল আলম ও বাশার। ভর্তি কমিটির শীর্ষ পদটি প্রতি বছরই নিজের বাগে রাখতে বেশ পটু বাহার। এনিয়ে কলেজটির একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শিক্ষকরা যদি এভাবে চাক্ষুস দুর্ণীতি করে তাতো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনেই দুর্ণীতির হাতে খড়ি হয়ে তাদের জীবনে গেঁথে থাকবে। আমরা সবই দেখছি কিন্তু কিছুই করার নেই, দলবাজ এই চরিত্রগুলোর লবিং এত উচ্চ পর্যায়ের যে কিছুই হচ্ছেনা। যেকারণে একই কলেজে বছরের পর বছর চাকুরী করে আবার একই কমিটিতে বহাল থাকে তারা। অথচ এব্যাপারে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, আপনারা যেহেতু বলছেন বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। তার উপস্থিতিতেই কলেজটির বিভিন্ন বিভাগে এমন দুর্ণীতি হচ্ছে তাহলে কেন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি এসেছি অল্প কিছু দিন তবে এমন বিষয় গুলো যাতে করে ভবিষ্যতে আর না হয় সে বিষয়ে লক্ষ রাখবেন। অপরদিকে আইসিটির নামে বিপুল অংকের টাকা হাতানোর ব্যাপারে নাম না প্রকাশের শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতার জন্য আইসিটি ক্লাসটি নেয়া হচ্ছে। এর জন্য স্ব-স্ব কলেজ থেকে নির্দিষ্ট শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগ তার ব্যায় বহন করবে। কিন্তু সেই হিসেবে আইসিটি শিক্ষকদের সম্মানি দেয়া হয় মাত্র ৩/৪ হাজার টাকা। কলেজটিতে নিয়মিত ও অনিয়মিতসহ প্রায় ৩/৪ জন আইসিটি শিক্ষক রয়েছে। একইসাথে ইন্টারনেট কানেকশন ব্যায় কলেজ থেকে বহন করা হয় যার পরিমানও যতসামান্য। তাহলে বিপুল অংকের এ টাকা যায় কোথায়? এমন জিজ্ঞাসায় আইসিটির পাঠদানকারী সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুর সোহেল বলেন, এবিষয়ে আপনারা অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। কলেজটিতে পাঠদানকারী শিক্ষকদের দ্বারা জিম্মিদশার খপ্পরে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, উপবৃত্তি প্রদানে বাহার ও আরেক জন স্যার আছে তারা তাদের পছন্দমতো সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীকে বাছাই করে অথচ কষ্টে থাকা শিক্ষার্থীরা তার কাছে যেতেই পারেনা, তাহলেই তেলে বেগুনে জ্বলেওঠে দুর দুর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এমন ঘটনার ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সভায় আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।