• ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দেশে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায়

লন্ডনে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৪, ২৩:৫০ অপরাহ্ণ
লন্ডনে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥
একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত মো: মেহেদী হাসান বর্তমানে অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এ নেতা রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। সংগঠনের ভেতরে তাকে তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

মেহেদী হাসান ছাত্রলীগের রাজনীতি ব্যবহার করে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। এই প্রভাব বলয়ের মধ্যে থেকেই তিনি ২০২১ সালে পাড়ি জমান লন্ডনে।

তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সরকারের পতনের পরও মো: মেহেদী হাসান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে নিয়মিতভাবে স্ট্যাটাস ও মন্তব্য প্রকাশ করে আসছিলেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ জনতা মো: মেহেদী হাসানের নিজ বাড়িতে হামলা চালায়। ভাংচুর করে তার বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পারিবারিক সম্পত্তি। এতে তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ভীতির মধ্যে পড়ে যান এবং পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

 

এ সময় স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত তার পরিবারকে সরাসরি হুমকি দেয় যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি মেহেদী হাসান আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো ধরনের লেখালেখি চালিয়ে যান, তাহলে তিনি বাংলাদেশে ফিরলেই তাকে খুঁজে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করা হবে। জানায়ায়, বর্তমানে মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা দেশেই অবস্থান করছেন, তবে একেবারে গোপনীয়ভাবে। এছাড়াও, তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চালানো হচ্ছে কঠোর নজরদারি।

 

অন্যদিকে, মো: মেহেদী হাসান লন্ডনে অবস্থান করলেও প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে। সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতা, আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে তিনি নিজেও বর্তমানে চরম মানসিক চাপে আছেন বলে জানা গেছে।তার পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপে পরিবারটি আইনের শরণাপন্ন হতেও ভয় পাচ্ছে।

 

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে কীভাবে একজন সাবেক ছাত্রনেতার পরিবার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে এমন হুমকির মুখে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার আওতা থেকেও দূরে চলে যায়।

 

প্রসঙ্গত,বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আজ বড় প্রশ্নের মুখে। প্রবাসে বসবাসরত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক মতামতের কারণে তাদের পরিবারের ওপর এমন চরম হামলা ও হুমকি স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।