বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল:পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে দোকান ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক নারী বাদী হয়ে বাউফল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। বাদী মোসাঃ খাদিজা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার ও স্বামীর নামে নুরাইনপুর বাজারে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ৫টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকানে তার পিতা আলাউদ্দিন বেপারী ধান, ডালসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী সেলিম সিকদার, শাহিন, মাহাবুব সিকদার, রিয়াজ মৃধা, আলমগীর আকনসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দোকানঘরে হামলা চালায়। তারা তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া দোকানে মজুত রাখা ২০০ মন মুগডাল নিয় যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। সংবাদ পেয়ে দোকানের মালিক আলাউদ্দিন বেপারীসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরদিন ভোর ৬টার দিকে বাদী খাদিজা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখেন, অভিযুক্তরা তার দোকানের পেছনে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দেয়াল নির্মাণ করছে। তিনি এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। একপর্যায়ে মারধরের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। তখনও অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাক্ষী জানিয়েছেন, আসামিরা দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছে এবং বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় গণ্যমান্যরা বিষয়টিকে পরিকল্পিত সম্পত্তি দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। খাদিজা আক্তার জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”