বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চর গাজীপুর গ্রামে অতর্কিত হামলায় তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতরা হলেন – হাসান খান (৬৫), বেলায়েত (৫২) ও এনায়েত (৫০)। বর্তমানে তারা পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে চর গাজীপুরের গোড়া খাল এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে (ফোরকানের দোকানের সামনে) অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইলিয়াস মেম্বারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আ. রহিম খান, মাহাবুব, মামুন, সফিক, ফেরদৌস, সাত্তার ও রফিকুলসহ একদল লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও জিআই পাইপ নিয়ে হামলা চালায়। তারা তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।
আহতদের স্বজনদের দাবি, অভিযুক্তরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং অনেকেই পদধারী। হামলার পর থেকে আহতদের পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস মেম্বার হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেলে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়েন। তাকে হামলার জন্য দায়ী করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস মেম্বার বলেন, আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরপর তিনি দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ডের দরিচর গাজীপুর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাওসারুল আলম বাবু বলেন, “এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবেই এসব ঘটানো হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও একই কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে একই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মো. নান্টু সিকদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরও আগে এলাকার বাচ্চু সিকদার নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে পাড়েরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম জানান, আহতদের দেখতে আমি হাসপাতালে গিয়েছি। এ বিষয়ে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান আ. রাজ্জাক হাওলাদারকে অবহিত করা হয়েছে। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।