• ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

হোসনাবাদ সাহেবেরচর খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়, প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হয় যাত্রীরা!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মে ৫, ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
হোসনাবাদ সাহেবেরচর খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়, প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হয় যাত্রীরা!

মুলাদী প্রতিনিধি॥ সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বরিশালের মুলাদী ও গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ সাহেবের চর খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি নির্ধারিত জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে দশ টাকা করে। শুধু তাই নয় রাত হলে দু’পাড়ের মানুষকে জিম্মি করে ৫০ থেকে ১০০ টাকা আদায় করে ইজারাদার।

খেয়াঘাটে টোল আদায়ের চার্ট টানানোর নিয়ম থাকলেও কোথাও নেই চার্ট টানানো । প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের জজ বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম করে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, বাংলা ১৪২৮ সালের জন্য হোসনাবাদ সাহেবের চর ৪ লাখ ৪ হাজার টাকায় হোসনাবাদ সাহেবের চর খেয়ার ইজারা নেন তোফাজ্জেল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১৫ টাকা ও বাইসাইকেল ৫ টাকা করে পারাপারের কথা রয়েছে।

আর এ টোল চার্ট প্রতিটি খেয়াঘাটের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হোসনাবাদ সাহেবের চর খেয়াঘাটে টোল চার্ট টানানো নেই।

প্রতিদিনই এ খেয়া দিয়ে মুলাদী গৌরনদী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। হোসনাবাদ সাহেবেরচর তোফাজ্জেল ঘাট ইজারা নেয়ার পরই সরকারি এ নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রতি পাচঁ টাকার পরিবর্তে দশ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আর বিশেষ দিবস, মেলা ও ঈদে সময় জনপ্রতি ২০ টাকা করে আদায় করে। মটরসাইকেল পারাপারে ১৫ টাকার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৪০/৫০ টাকা করে। আর বাইসাইকেল ৫ টাকার পরিবর্তে ১০/১৫ টাকা করে আদায় করা হয়। হাতের মালামালেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।

নাজিরপুর এর বাসীন্দা সাবেক বিডিয়ার সদস্য মো:ইসমাইল হাওলাদার জানান, হোসনাবাদ সাহেবেরচর খেয়া ঘাট সরকারী ইজারা হওয়ার পর থেকেই তোফাজ্জেল ইজারা নেয়ার পরই খেয়া ঘাটের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে।

ইজারা দার তোফাজ্জেল তার দূর সম্পর্কের আত্বীয় মাহমুদুল হাসান ( জজ ) পরিচয়ের ভয় দেখিয়ে আমাদের জিম্মি করে রাখছেন।

তিনি আর ও বলেন , অতিরিক্ত ভাড়ার আদায়ের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয় তোফাজ্জেল, ফরিদ খান, হারুন খান সহ জজ বাহিনীর হাতে। মুলাদী গৌরনদী দুই উপজেলার মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করছে।

মুলাদীর রুবেল সিকদার বলেন, কোনো রোগী নিয়ে আসলে খেয়া দিয়ে তাড়াতাড়ি পার হওয়া যায় না। ৬০ জন লোক না হলে খেয়া ছাড়ে না। আর ছাড়তে বললে বলে ৬০ জনের ৬শ’ টাকা দিলে খেয়া ছাড়া হবে।

অনেকে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই চার/পাচঁ শত টাকা দিয়ে পারাপার হয়। অতিরিক্ত ভাড়ার আদায়ের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয় তোফাজ্জেল, ফরিদ খান, হারুন সহ মাহমুদুল হাসান জজ বাহিনীর হাতে।

শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, খেয়াঘাট দিয়ে আমি প্রতি সপ্তায় ৫ দিন পাড় হই। খেয়াঘাটে এদের হাতে প্রতিদিনই দুই/একশত যাত্রী লাঞ্ছিত হচ্ছে। তাই ভদ্রলোকরা এই ভয়ে ওদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করে না। তিনি ক্ষোভ করে বলেন, এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।

বছরের পর বছর অনিয়ম করে যাচ্ছে কিন্তু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। থেয়া দিয়ে পাড়াপাড়ের সময় সম্মান নিয়ে যেতে পারলেই বাচিঁ।

চর নাজিরপুর গ্রামের শাকিল মুন্সী জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করলে বলেন আমাদের জজ সাহেব আছে। কিছু বললেই মামলার হুমকি দেন। এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এজন্য এখন আর মানুষ প্রতিবাদ করে না।

গৌরনদীর সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক লোক অতিরিক্ত টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করলে ফরিদ খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভদ্র লোককে অপমান করেন । পরে চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে হোসনাবাদ সাহেবেরচর খেয়াঘাটের ট্র্রলার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী ফরিদ খান বলেন, বেশি টাকায় ইজারা নিয়েছি। আমাদের ঘাট ইজারা এক জনের নামে আসলেও আমরা ৫ জন ভাগ করে নেই।

এইটা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে হবে ও জমি কিনতে হবে। সবাই জানে আমরা বেশি টাকা নেই এর কম নিলে লোকসান হবে। কেউ না দিলে জোড় করি না। আর দৃশ্যমান স্থানে টোল চার্ট টানানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। কত টাকা দিতে হবে তাতো মুখেই বলছি-টানাতে হবে কেনো।

এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, হোসনাবাদ সাহেবের চর খেয়াঘাটের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।