স্বজনদের বুক ফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আমতলীর বাতাস

ডেটলাইনঃ মা ছেলেসহ ৩ জন নিহত, আহত-৪

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

স্বজনদের বুক ফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আমতলীর বাতাস

জাকির হোসেন, আমতলী ॥

আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমতলী একেস্কুল চৌরাস্তা মোরে শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় মায়ের দোয়া পরিবহন নামে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আমতলী পৌরসভার বাসিন্দা মা নুপুর বেগম (৩০) ছেলে নিশাত (১০) ও বড় বোনের মেয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী লামিয়া (১৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

 

আহত হয়েছে নিহত নুপুরের মেয়ে মমতা (৬) সহ ৪ জন। ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে পুলিশ। চালক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে।

 

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় মায়ের দোয়া পরিবহন (পটুয়াখালী-জ-১১-০০১০)নামের একটি বাস বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমতলী একেস্কুল চৌরাস্তা মোর এলাকায় আসে।

 

বাসটি একেস্কুল চৌরাস্তা মোর এলাকায় আসা মাত্র নিয়ন্ত্র হাড়িয়ে মুহুর্তের মধ্যেই ফুট পাতে উঠে পথচারীদের চাপা দেয়। এসময় ফুটপাতে দাড়িয়ে থাকা নুপুর বেগম (৩০) তার ছেলে নিশাত(১০) ও বড় বোন মিনারা বেগমের মেয়ে এবছর হলদিয়া ইউনিয়নের তাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ এর এসএসসি পরীক্ষার্থী লামিয়া (১৫) নিহত হয়। নিহত নুপুরের বাসা আমতলী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের টিএন্ডটি সড়কে। তার স্বামী আবুল হোসেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী।

 

আরেক নিতহ লামিয়ার বাবা দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের জসিম উদ্দিন মোল্লার মেয়ে সে পেশায় একজন দলিল লেখক। লামিয়া তার খালার সাথে একত্রে বেড়াতে যায়। আহত হয় নিহত নুপুর বেগমের ৬ বছর বয়সী মেয়ে মমতাজ বেগম, কালী বাড়ী গ্রামের মো. আব্দুল জব্বার (৫৪), চাওড়া চালিতাবুনিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দি মৃধা (৫৬) ও চাওরা চন্দ্রা গ্রামের রুবেল মুছূল্লী (৩০) নামের ৪ পথচারী।

 

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নিহত এবং আহতদের উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত মমতাজ বেগম এবং আব্দুল জব্বারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পথচারীদের চাপা দেওয়ার আগে বাসটি সড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি মাইক্রো ও অটোকে চাপা দেয়। বাসের চাপায় অটোটি দুমরে মুছরে যায় এবং মাক্রোটি সামন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

নিহত নুপুর বেগমের মা আম্বিয়া বেগম কান্না জড়িত কণ্টে জানান, শুক্রবার সকালে নিহত নুপুর তার ছেলে নিশাত মেয়ে মমতাজ এবং বোনের মেয়ে লামিয়াকে নিয়ে আমতলীর গাজীপুর বন্দরে এক আত্বীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়।

 

শনিবার সকালে সেখান থেকে একটি অটোযোগে আমতলী আসে। সকাল সাড়ে ১১ টার সময় আমতলী এসে অটোর ভাড়া দিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য ফুট পাতে রিকসার জন্য দাড়িয়ে ছিল এর মধ্যেই ঘাতক বাসটি ফুটপাতে উঠে ৩ জনের প্রান কেড়ে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা আমতলী হাসপাতালে ছুটে আসে।

 

এসময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকের চোখ দিয়ে তখন পানি ঝড়ছিল। নুপুরের মা আম্বিয়া বেগম বিলাপ করছিল আর বলছিল মোর মায় গ্যাছে কই হ্যারে আইন্যা দেও। আইন্যা দেও মোর নাতি নিশাত আর লামিয়াকে এ কথা গুলো বলছিল আর বার বার মুর্ছা যাচ্ছিল।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও একেস্কুল মোর এলাকার ব্যবসায়ী প্রত্যাক্ষদর্শী মো. জাকির হোসেন জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই বাসটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং মর্মান্তি ভাবে ৩টি লোক নিহত হয়।

 

ঘটনার পরপরই আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক বাসটি আটক করে এবং বাসের চাপায় দুমরে মুছরে যাওয়া অটোকে থানায় নিয়ে যায়।

 

মমতাজ জানে না তার মা কোথায়

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নুপুর বেগমের ৬ বছরের মেয়ে গুরুতর আহত মমতাজ এখনো জানে না তার মা কোথায় আছে কি করছে। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের শয্যায় শুয়ে শুধু মা কোথায় জানতে চাচ্ছে আর কান্না করছে। স্বজনরা এখনো তার মা মারা গেছে সে বিয়টি তাকে এখনো জানতে দেয়নি। এঅবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে।

Shares