সংবাদ শিরোনাম
 করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে যুক্তরাজ্যে !  পুলিশ ফাঁড়ির জমি ফিরিয়ে নিলেন দাতা : প্রতিবাদে সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির সভা  বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির মৃত্যুতে জেলা আ’লীগের শোক  করোনায় আক্রান্ত এমপি পঙ্কজ নাথ  মঠবাড়িয়ায় সমিতির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ  বানারীপাড়ায় জাকির স্যারের মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত   বাউফলে ৭ রাউন্ড গুলিসহ জলদস্যু আটক  বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • বরিশাল |১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সালমান শাহ চলে যাওয়ার ২৪ বছর, আজও ভুলতে পারে না ভক্তরা

১২:৫২ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০ বিনোদন

বার্তা ডেস্ক ::

১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার। ঠিক আজকের মতোই এমনই এক সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনই নয়, সাধারণ মানুষের মনকেও আকস্মিক এক খবরে হতবাক করে দেয়। সালমান চলে যান না ফেরার দেশে।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’র সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন সালমান শাহ। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ওই সিনেমাতে তার সঙ্গে নায়িকা হিসেবে ছিলেন নবাগত মৌসুমী। প্রথম সিনেমার পরই দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সালমান।

মৌসুমী, শাবনূর, শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা আরো অনেক নায়িকার সঙ্গেই জুটি হয়েছিলেন সালমান। সালমান শাহ অভিনীত ছবির মধ্যে অন্যতম- কেয়ামত থেকে কেয়ামত, তুমি আমার, অন্তরে অন্তরে, সুজন সখী, বিক্ষোভ, দেনমোহর, বিচার হবে, এই ঘর এই সংসার, আনন্দ অশ্রু। তার অভিনীত প্রতিটি সিনেমাই ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছিল।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় সালমানের। এটি খুন নাকি আত্মহত্যা সেটি আজও রহস্যই রয়ে গেছে। যদিও সর্বশেষ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন বলছে পারিবারিক কলহে সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর এত বছর পরেও তার জনপ্রিয়তার একটুও কমেনি। দিন যাচ্ছে, বছর যাচ্ছে সালমান ততই যেন জনপ্রিয় হচ্ছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে।

আজকের মতো সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন। শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন ঢাকার তৎকালীন সিনেমা জগতের সুপারস্টার সালমান শাহ। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহ’র বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিল না।

নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, বলেছে স্যার এখনতো উপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহ’র স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। এক পর্যায়ে উনি (সালমান শাহ’র বাবা) জোর করে উপরে গেছেন। কলিং বেল দেবার পর দরজা খুললো সামিরা (সালমান শাহ’র স্ত্রী)।

উনি (সালমান শাহ’র বাবা ) সামিরাকে বললেন ইমনের (সালমান শাহ’র ডাক নাম) সাথে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাকো। তখন সামিরা বললো, আব্বা ওতো ঘুমে। তখন উনি বললেন, ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি। কিন্তু যেতে দেয় নাই। আমার হাজব্যান্ড প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।

বেলা এগারোটার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীর বাসায়। ঐ টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে।

টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ’র বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী। ‘খাটের মধ্যে যেদিকে মাথা দেবার কথা সেদিকে পা। আর যেদিকে পা দেবার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার (সালমান শাহ’র স্ত্রী) এক আত্মীয়ের একটি পার্লার ছিল। সে পার্লারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে সর্ষের তেল দিচ্ছে। আমি তো ভাবছি ফিট হয়ে গেছে।’

‘আমি দেখলাম আমার ছেলের হাতে পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নীলা চৌধুরী। ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।

সালমান শাহ’র চলে যাওয়ার ২৪ বছর হয়ে গেলে। এই এতো বছর পরেও ভক্তরা ভুলতে পারেন না তাঁকে।