• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সভ্যতার অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে নারীদের অবদান

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মার্চ ৮, ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সভ্যতার অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে নারীদের অবদান

বিডি ক্রাইম ডেস্কঃ নদীভাঙনে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার পর রহিমা আক্তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বরিশাল থেকে ঢাকায় চলে আসে ১০ বছর আগে। ঢাকার কমলাপুর বস্তিতে তারা ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। রহিমারা তিন ভাইবোন। রহিমা বরিশালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। অভিবাসনের ফলে আর্থিক সমস্যায় পড়ে যায় তার পরিবার। রহিমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। রহিমা ছোট দুই ভাইবোন নিয়ে বস্তির ঘরে থাকে। তার বাবা ঠেলাগাড়ি চালান আর মা রাস্তায় ইট ভাঙার কাজ করেন। একপর্যায়ে সংসারের অভাব ঘোচাতে রহিমা আরামবাগে গার্মেন্ট কারখানায় পোশাককর্মী হিসেবে কাজ নেয়। রহিমা জানায়, কাজ শেষ করে ঘরে ফিরতে অনেক সময় রাতে রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বখাটেদের মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, থেমে যাইনি। বর্তমান সরকার পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়েছে।

 

আর্থিকভাবে অনেকটা সচ্ছলতা এসেছে।নারীদের পথ চলা বিশ্বব্যাপী আজও মসৃণ হয়নি। তাদের ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সভ্যতার অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে নারী ও পুরুষের সমান অবদান অনস্বীকার্য। নারীকে বাদ দিয়ে পুরুষের একক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নের কথা কল্পনা করা যায় না। কিন্তু যুগ যুগ ধরে তারা অবহেলিত ও শোষিত হয়ে আসছে। সামাজিক কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বেড়াজালে নারীরা তাদের অধিকার বিসর্জন দিয়ে আসছে বহু বছর ধরে। নারীরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ও আত্মপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বারবার। পূর্ণ মর্যাদা প্রদান করে নারীর মেধা ও শ্রমকে শক্তিতে রূপান্তর করে আত্মনির্ভরশীল করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

 

নারীরা অনেক এগিয়েছে, ক্ষমতায়িত হয়েছে, কিন্তু তারপরও প্রতিনিয়ত তারা খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে নানা উদ্যোগ ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে। তার পরও ব্যাপক অর্থে পরিবর্তন হচ্ছে না। কভিড মহামারি নারী নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনও অনেক অঞ্চলে জন্মের আগেই কন্যাশিশুর ভ্রƒণ হত্যা করা হচ্ছে। মেয়েসন্তান জš§ দেয়ার অপরাধে মাকে তালাক দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও সমাজে ঘটছে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা প্রতিবাদী হচ্ছে, অধিকার আদায়ে সোচ্চার হচ্ছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১৮৫৭ সালে নিউ ইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা রাস্তায় আন্দোলনে নামে। সেদিন বেতনবৈষম্য, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর কাজের বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর পুলিশ ও কারখানার মালিকরা দমন-পীড়ন চালায়। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে জার্মানিতে এ দিনটির স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে।

 

 

১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মতো প্রতি বছরের ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। সে প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে।নারী দিবসের পটভূমি ব্যাপক। এটি দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। সারা বিশ্বে নারীদের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে ৮ মার্চ সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে। দিবসটির আদি নাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদ্যাপন করা হয়। এ বছর ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ২০২১’-এর প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

 

 

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীদের জাগ্রত করাই আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য।আজ থেকে এক শতাব্দীরও আগে নারী জাগরণের স্বপ্ন দেখেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সে স্বপ্ন পূরণের পথেই অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশের নারী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন তথা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা, নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারী শ্রমশক্তির উচ্চতর অংশগ্রহণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধিকরণ এবং নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়গুলো অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।সংবিধানেও নারীর যথাযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানে নারীর অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। ১৯ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবে।’ ২৭নং ধারায় উল্লেখ করা হয়েছেÑ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

 

 

 

’ এছাড়া ২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩), ২৮(৪), ২৯(১), ২৯(২) ধারায় নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকারের বিধান রয়েছে। ৬৫(৩) ধারায় নারীর জন্য জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষিত আছে এবং এ ধারার অধীনে নারী স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে প্রথম নারীর ক্ষমতায়নের যাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে নারী মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন। তারপর ১৯৭৮ সালে গঠিত হয় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৯৯৪ সালে তা বর্ধিত করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করা হয়। নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার রোধ, নারীর নিরাপত্তা এবং সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। নারীকে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর অ্যাক্রিডেটেড পোভার্টি রিডাকশনে (এনএসএপিআর) বিভিন্ন কার্যক্রম সন্নিবেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই পোশাক তৈরি খাতে নারী শ্রমিকের অবদানই সবচেয়ে বেশি।কভিডকালে অনেক নারী কাজ হারিয়েছেন। ছোট-বড় অনেক নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার প্রণোদনা দিয়ে তাদের জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করছে।

 

 

এরই মধ্যে অনেকেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা বয়স্কভাতা ৪৯ লাখ, আর্থিক বরাদ্দ দুই হাজার ৯৪০ কোটি টাকা; বিধবা, স্বামী নিগৃহীত মহিলা ভাতা, উপকারভোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫০ হাজার, আর্থিক বরাদ্দ এক হাজার ২২০ কোটি টাকা; অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৮ লাখ, আর্থিক বরাদ্দ এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা; প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ, আর্থিক বরাদ্দ ৯৫ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা; হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, উপকারভোগীর সংখ্যা ছয় হাজার, আর্থিক বরাদ্দ ছয় কোটি টাকা; বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, উপকারভোগীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৪২০, আর্থিক বরাদ্দ ৭৫ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কর্মসূচি, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, বিভিন্ন জটিল রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিসহ অড়াই কোটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া সরকার কভিডকালে দেশের মানুষকে নগদ সহায়তা করেছে, যাতে কোনো মানুষ খাদ্যে কষ্ট না পায়।বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রত্যেকেই নারীÑএমন উদাহরণ বিশ্বের কোথাও নেই। অষ্টম সংসদে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে নারী আসনসংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫। এর আগে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ছিল ৩০।

 

 

নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির প্রয়োজনে নবম সংসদের ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ জন। তাদের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ২২ জন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে ১৬ হাজারের বেশি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ রয়েছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।
বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও নারীর ক্ষমতায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আর এ ক্ষমতায়ন সফল করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ রয়েছে। জাতিসংঘ নারীর রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালকে ‘বিশ্ব নারী বর্ষ’, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৫ সালকে নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করে।

 

 

১৯৭৫ সালে মেক্সিকোতে, ১৯৮০ সালে কোপেনহেগেনে, ১৯৮৫ সালে নাইরোবিতে এবং ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে বিশ্ব নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উন্নত দেশগুলো, যেমনÑযুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও নারী ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাচনে নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। এছাড়া অনেক নারী জো বাইডেন প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নারী জেইন সিদ্দিকও রয়েছেন।

 

 

নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বাইরে সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে রান্নাবান্নাসহ ঘরের যাবতীয় কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই, নেই কোনো পারিশ্রমিক। নারীর ঘরের কাজকে কোনো কাজ মনে করা হয় না। সম্প্রতি চীনে নারীর ঘরের কাজের জন্য স্ত্রীকে পারিশ্রমিক দেয়ার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এমনকি বিয়েবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন, যদি বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী স্বামীর তুলনায় গৃহস্থালির কাজ বেশি করেন। যে নারী ঘরের বাইরে গিয়ে উপার্জন করে, তার জন্যও বাড়ি ফিরলে অপেক্ষা করে গাদা গাদা ঘরের কাজ। নারীর যে কাজকে পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা বলে বারবার গুরুত্বহীন করেছে, এ আইন তাকে বিচার করেছে অর্থনৈতিক মূল্যে। সেদিক থেকে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

২০১৮ সালে সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, গার্হস্থ্য শ্রম বা ঘরের কাজে নারীর নীরব অবদানের অর্থমূল্য ১০ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৭ সালের মোট জিডিপির ৭৮ দশমিক আট শতাংশ। প্রতিদিন একজন নারী পুরুষের তুলনায় তিনগুণ বেশি কাজ করে, যা জাতীয় আয়ে যুক্ত হয় না।বাংলাদেশে নারীদের অনেক ইতিবাচক অর্জন রয়েছে। দক্ষতা ও সক্ষমতায় নারীর অভিযাত্রা নতুন নতুন দিগন্ত স্পর্শ করছে। দেশের উন্নয়নে নারী রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নারীর অধিকার রক্ষায় অনেক নীতি ও আইন প্রণীত হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুক নিরোধেও আইন আছে। সরকারের জোরালো ভূমিকা আর সচেতনতায় নারীর প্রতি পুরুষের ধারণা অনেকটাই পাল্টে গেছে।

 

 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সুফল প্রতিটি নারীর কাছে পৌঁছাতে হলে নারী ও পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ খুবই জরুরি। এ উদ্যোগ আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। প্রতিষ্ঠিত হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা।জাতীয় কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন, ‘কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরণা দিয়েছে সাহস দিয়েছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।’ সংসারে নারীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মা, স্ত্রী, বোন, কন্যাসহ মর্যাদাপূর্ণ সব সম্পর্কের বাঁধনে নারীরা পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তারা সমাজের অর্ধেক অংশ। সব ধরনের বৈষম্য দূর করে তাদের অধিকার ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাই হোক এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের লক্ষ্য।