• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

শরতের কাঁশ ফুলের নরম ছোয়ায় সবাই ছুটছেন আমতলী পৌরসভার কাঁশবাগানে

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, ১৫:১৯ অপরাহ্ণ
শরতের কাঁশ ফুলের নরম ছোয়ায় সবাই ছুটছেন আমতলী পৌরসভার কাঁশবাগানে

জাকির হোসেন, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: শরতের কাঁশ ফুলের নরম ছোয়া লাগাতে সবাই ছুটছেন কাঁশ ফুলের বাগানে।

পরন্ত বিকেলে দল বেধে কিশোর কিশোরী আর গৃহিনীরাও ছুটছেন এই সুন্দর বিকেলের স্মৃতি ধরে রাখতে।

আলোঝলমলে সাদা মেঘের ভেলায় যেন ভাসছে আমতলী পৌর ভবনের দেয়াল লাগোয়া ছোট্ট পরিসরের শরতের কাঁশবন। প্রতিদিন পর্যটকদের ভারে মুখরিত হয়ে ওঠে এই কাঁশ বন।

শহরের ভ্রমন পিপাশুরা এখন দল বেধে আসছেন এই কাঁশবনে। কাঁশ বনে আসলেই যেন তাদের মন জুরিয়ে যায়। আগন্তকদের ছোটা ছুটি আর মনের আনন্দে সেলফি তোলা দেখেই তা সহজে অনুমান করা যায়।

শহরের কিশোর কিশোরী আর সকল মানুষের ভ্রমনের একমাত্র পছন্দের জায়গা ছিল পায়রা নদীর তীরবর্তী পশ্চিম কালিবাড়ী বøকটি। নদীর হিং¯্র থাবায় বিলিনে এবং বালু ব্যবসায়ীদের লোলুপ দৃষ্টির কারনে জায়গাটি দখল হওয়ায় প্রতিদিনের ভ্রমন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিশোর কিশোরী আর সকল শ্রেনি পেশার মানুষ।

এর মধ্যেবই আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে আমতলী পৌর ভবনের পিছনের বিশাল এলাকা জুরে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা শরতের কাঁশ ফুলের বাগান। এ যেন একটু শান্তির ছোয়া। করোনামুক্ত পরিবেশে নিজেদেরকে বিলিয়ে দেওয়ার একটু সময় অতিবাহিত করা।

তাইতো বিকেল হলেই দল বেঁধে ছুটছে কিশোর কিশোরী আর নানা বয়সী নারী পুরুষ। তারা দল বেধে হই হুল্লুর করে মাতোয়ারা হয়ে ছবি তুলছেন কেউ বা আবার খোপায় দুএকটি কাঁশফুল গুজে ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন। এ যেন এক কিশোর কিশোরীদের মহা মিলন মেলা।

শুক্রবার বিকেলে কাঁশ বাগান ঘুরে দেখা গেছে এক আনন্দ উচ্ছাসের মধ্যে দিয়ে আগন্তকরা সময় কাটাচ্ছেন। তবে বেশী দেখা গেছে কিশোরীদের। কিশোরাও কম আসেননি। এসছেন গৃহবধূরাও। তারা আনন্দ করে বাহারী ডঙ্গে ছুবি তুলছেন।

কথা হয় পটুয়াখালী কলেজ শিক্ষার্থী রেজিনার সঙ্গে। রেজিনা পটুয়াখালী থেকে আমতলী তার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। কাঁশ বাগানের ফুলের কথা শুনে লোভ সামলাতে না পেরে ঘুরতে এসেছেন। কেমন লাগছে জানতে চাইলে সোজা উত্তর খুব ভালো লেগেছে।

আরেক স্কুল ছাত্রী লামিয়া বলেন, পৌর ভবনের পাশে এরকম একটি কাঁশ ফুলের বাগান হওয়ায় আমরা একটু ঘুরতে আসার সুযোগ পেয়েছি। জায়গাটি অনেক ভালো লেগেছে।

জুনায়েদ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বন্ধু বান্ধব মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। মজা করে অনেক ছবি তুলেছি।

ঘুরতে আসা গৃহবধূ মাহমুদা পারভীন বলেন, ফুলে ফুলে ভরে গেছে পুরো এলাকা। দুর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মেঘের ভেলায় ভাসছে পুরো এলাকা। মজার দারুন দৃশ্য।

যে কেউ দেখলে বার বার আসতে ইচ্ছে করবে এই জায়গায়। ঘোরা ঘুরির পর মেয়েকে নিয়ে অনেকে ছবি তুলেছি। সারাটা বিকেল খুব মজা করে কাটিয়েছি এখানে। আবার আসবো যে কোন বিকেলে।

কাঁশফুলের বাগানে ভ্রমন পিপাশুদের পদচারনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে পৌরসভা থেকে সার্বক্ষনিক দেখভালের জন্য একজন পৌর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কাঁশপুলের এই বাগান ঘিরে। এখানে আসা কিশোরী এবং গৃহবধূরা যাতে কোন রকমের হয়রানির শিকার না হয়।

পৌর পুলিশের এসআই সমির চন্দ্র বলেন, প্রতিদিন শত শত কিশোর কিশোরী গৃহবধূ পৌর ভবনের পিছনে কাঁশ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আসে। আমরা তাদের নিরা পত্তা দিয়ে থাকি।

আমতলী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, পৌরভবনের পিছনে সীমানা দেয়াল লাগোয়া বিস্তৃত জায়গায় প্রাকৃতিক ভাবে কাঁশবাগানের সৃষ্টি হয়েছে।

বাগানে এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। প্রতিদিন ভ্রমন পিপাশু কিশোর কিরোশী এমনকি গৃহবধূরাও এখানে আসছে ভ্রমনে।

কাঁশ ফুলের বাগানটি সংরক্ষনের জন্য পৌর সভার সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি। ভ্রমনে আসা কিশোর ও কিশোরীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক ভাবে একজন পৌর পুলিশ মোতায়েন করেছি।

তিনি আরো বলেন, শরতের কাঁশ ফুলের বাগান ঘিরে পৌরসবা হবে আমতলী পৌর বাসীর আশ্রয়স্থল। সবাই আমাকে সহযোগিতা করলে পৌরসভা হবে নাগরিক সেবার কেন্দ্রস্থল।