• ৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

রাজাপুরে ব্রিজের ইট-রড খুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত আগস্ট ৭, ২০২২, ১৪:২৩ অপরাহ্ণ
রাজাপুরে ব্রিজের ইট-রড খুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে এলাকার আইরন ব্রিজের (লোহার সেতু) মালপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন-মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল আহম্মেদ ও তার সহযোগী সুমন এবং ইউপি মেম্বার নাসির উদ্দিন তারা, সবুর ফকির এবং সংরক্ষিত মেম্বার তাজেদা বেগমের স্বামী মো. বাবুল গাজী।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেঙে ফেলা সেতুটির টেন্ডার হলেও এখনও কাজের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেতু ভাঙার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। স্থানীয়দের কাছ থেকে গত বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, সেতু ভেঙে বেশিরভাগ রড ও ইটসহ অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়েছে। সেতুর কিছু মালপত্র প্রকৌশলী উদ্ধার করে পরিমাপ করে স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে আসেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল খলিফা, বেলায়েত হোসেন, নান্না তালুকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মিলন জানান, গত দুই মাস আগে মঠবাড়ি ইউনিয়নের ডহরশংকর গ্রামের লোহার সেতুটি ভেঙে ফেলার টেন্ডার হয়। এ কথা শুনে ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহম্মেদের নেতৃত্বে সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ওই সেতুর মালপত্র চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী সুমন, নাসির উদ্দিন, নারী মেম্বারের স্বামী মো. বাবুল গাজী এবং সবুর ফকির নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে সুযোগ বুঝে নৌকা ও পিকআপ ভ্যানে করে সরিয়ে ফেলেন।

তারা আরও জানান, কাজের অনুমতি ছাড়াই দুই মাস সেতুটি ভেঙে ফেলায় স্থানীয় জনগণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সেতু না থাকায় সদরের সঙ্গে এ ইউনিয়নের একাংশের প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এখন তাদের মন্দা। এমনকি রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতেও প্রতিনিয়ত ঝামেলায় পড়তে হয়।

সেতুর ইট বহন করা পিকআপ ভ্যানের চালক মো. নাসির হোসেন বলেন, মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল আহম্মেদ, বাবুল গাজী ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নাসির উদ্দিন তারার নির্দেশনা অনুসারে চার গাড়ি ইট বহন করে তাদের দেখানো স্থানে পৌঁছে দিয়েছি।

ইউপি মেম্বার মো. নাসির উদ্দিন তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেতুর আশপাশের প্রত্যেকটি বাড়িতে সেতুর মালপত্র রয়েছে। রাস্তায় কাদা থাকায় সেখানে দেওয়ার জন্য আমি শুধু এক গাড়ি ইট নিয়েছি।

মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেতুর সব মালপত্র আমি রুমের মধ্যে জমা রেখেছি। পরে সরকারের কাছে জমা দেব। ইট স্থানীয় লোকজন নিয়ে গেছে। দুই-একটি ইট যদি রাস্তায় দেওয়া হয়, তা কি অপরাধ?

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, চোর তো চুরি করবেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেতুর কিছু মালপত্র জব্দ করেছি। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু ওসি সাহেব জিডি নেননি। তিনি আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করার কথা বলেছেন।