• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

রাজনৈতিক অস্থিরতায় সংকট পিছু ছাড়ছেন না পর্যটন নগরী কুয়াকাটার

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৩, ১৬:৩০ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক অস্থিরতায় সংকট পিছু ছাড়ছেন না পর্যটন নগরী কুয়াকাটার

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥ দেশে কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হলে শুরুতেই ধাক্কা লাগে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায়। যার ফলে স্থবির হয়ে পড়ে সকল কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করে পর্যটনশিল্পের সাথে যুক্ত সকল ব্যবসায়ী। করোনার ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরতে শুরু করছিল। পদ্মা সেতুকে আশীর্বাদ মনে করছিল ব্যবসায়ীরা। সেটায় এখন পুরোদমে ভাটা লেগেছে। পুরো সৈকতে নিরবতা। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে এ নিয়ে চলছে দুশ্চিন্তা।

চলতি মাসের ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতে তেমন কোনো পর্যটকদের আনাগোনা ছিল না। এর আগের সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবেও নগরী খালি ছিল। সপ্তাহের শুরুতে হরতাল ডাকার পরে একদিন বিরতির পরে আবার শুরু হয়েছে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি। ফলে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না।

সৈকতে বসে আছে স্পিডবোটের মালিক মো. লিটন, তাকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ২২ জন কর্মচারী। ডেইলি হিসেবে আমার ২৫ হাজার টাকা লস। গত কয়েক দিনে আমার লাখ টাকা নেই। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলব জানি না। করোনার সময় জমানো টাকা সব শেষ। এখন ঋনের বোঝা টানছি। আরও কয়েকটি দিন এমন থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।

সৈকতে বসে একা একা সময় পার করছে ক্যামেরাপারসন মো. মাসুদ তিনি বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১৫ শত টাকা আয় হত। গত কয়েক দিনে ডেইলি ১০০ টাকাও আয় হয় না। বউ বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো, মাস গেলে বাড়ি ভাড়া দিয়ে টিকে থাকাই এখন কষ্টসাধ্য। এটা থেকে মুক্তি চাই, না হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে।

সৈকতে চা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, মানুষ রাজনৈতিক দূরাবস্থা দেখে ভয় পাচ্ছে ঘর থেকে বের হতে। ২৮ অক্টোবর থেকে এখন ১০ কাপ চা বিক্রি হয় না। এমন সংকট আমরা চাই না।

হোটেল গোল্ডেন ইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম জহির জানান, আমরা সবার আগে ধাক্কা খাই। এ ধাক্কা কাটতে সময় লাগে অনেকদিন। এখন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান না হলে এ সংকট কবে নাগাদ কাটবে তা বলা মুসকিল। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

আমরা কুয়াকাটাবাসীর সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় মূলত পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেছে। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়বে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।